ইরানে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন–পীড়নে প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে আরও কয়েক হাজার মৃত্যুর খবর যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অল্প সময়ে এটি সরকারবিরোধী গণ–আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে বড় বড় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। এর ফলে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়েছে।
বিক্ষোভের তথ্য সংগ্রহকারী এনজিওগুলো জানিয়েছে, ১৮ দিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তাদের আশঙ্কা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) নিশ্চিত করেছে, তারা ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫২০ জন বিক্ষোভকারী, ৭৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক, ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪২ জন পথচারী। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তারা আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর তথ্য যাচাই করছে। এ ছাড়া অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক নেটব্লকস জানিয়েছে, পুরোপুরিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো প্রাণঘাতী দমন–পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে ইরান সরকার।
সরকার প্রথমবারের মতো বিক্ষোভে সরকারি তথ্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, নিহত ৩ হাজার ১১৭ জনের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং বাকি ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘দাঙ্গাবাজ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
ইরানের বাইরে থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টিভি চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ৮ ও ৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাড়ে ৩৬ হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। যদিও তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নরওয়ে ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, তারা অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে এবং প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজারে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
![szxcvbnm,.]](https://alokitoshodesh.com/wp-content/uploads/2026/01/szxcvbnm-696x390.png)









