কমছে চ্যাটজিপিটির ট্রাফিক বাড়ছে গুগল জেমিনির

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির ওয়েব ট্রাফিক গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির ব্যবহার এবং বাজার অংশীদারত্ব বেড়েছে।

ওয়েব অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান সিমিলারওয়েবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চ্যাটজিপিটির ডেস্কটপ ও মোবাইল মিলিয়ে বৈশ্বিক ওয়েব ট্রাফিক কমেছে প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, গত ছয় সপ্তাহে চ্যাটজিপিটির গড় দৈনিক ভিজিট কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। ডিসেম্বরের শুরুতে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতেন, জানুয়ারির শুরুতে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখে।

অন্যদিকে একই সময়ে গুগলের জেমিনি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। জেমিনির দৈনিক ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি। গত ডিসেম্বরে জেমিনির বৈশ্বিক ওয়েব ট্রাফিক হিস্যা আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে জেমিনির ব্যবধান কিছুটা কমে এসেছে।

তবে এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত স্বতন্ত্র এআই চ্যাটবট প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটিই। বৈশ্বিক এআই চ্যাটবট ওয়েব ট্রাফিকের প্রায় ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশই এর দখলে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরের ছুটির মৌসুমে সাধারণত অনলাইন কার্যক্রম কিছুটা কমে যায়, যা চ্যাটজিপিটির ট্রাফিক হ্রাসের একটি কারণ হতে পারে। পাশাপাশি গুগলের নতুন জেমিনি–৩ মডেল চালুর ফলে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে চালু হওয়া এই মডেলটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।

গুগলের দাবি, জেমিনি–৩ একই সঙ্গে লেখা, ছবি, অডিও ও ভিডিও বিশ্লেষণ করতে পারে এবং জটিল প্রশ্নের দ্রুত ও নির্ভুল উত্তর দিতে সক্ষম। বিশেষ করে জেমিনি–৩ ফ্ল্যাশ সংস্করণটি আগের মডেলের তুলনায় প্রায় তিন গুণ দ্রুত এবং কম খরচে উন্নত পারফরম্যান্স দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেমিনির বড় শক্তি হলো এর বিস্তৃত বিতরণ ব্যবস্থা। চ্যাটজিপিটিকে আলাদা ওয়েবসাইটে গিয়ে ব্যবহার করতে হলেও জেমিনি গুগল সার্চ, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম, জিমেইল এবং গুগল ওয়ার্কস্পেসের সঙ্গে একীভূত। ফলে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না যে তারা জেমিনির সঙ্গেই কাজ করছেন।

ব্যবহারকারী সম্পৃক্ততার দিক থেকেও জেমিনি এগিয়ে রয়েছে। সিমিলারওয়েবের তথ্য অনুযায়ী, জেমিনিতে গড়ে প্রতিটি ভিজিটের সময় ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড, যেখানে চ্যাটজিপিটিতে তা ৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ড।

এই প্রতিযোগিতার প্রভাব ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরেও পড়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান এই পরিস্থিতিকে ‘কোড রেড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।

চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির পাশাপাশি অন্যান্য এআই প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। ডিসেম্বরে ইলোন মাস্কের এক্সএআইয়ের গ্রোক পেয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ ভিজিট, ডিপসিক পেয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ ভিজিট এবং পারপ্লেক্সিটি ডটএআই পেয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ ভিজিট।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই এখন আর কেবল কৌতূহলের বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। বাড়তে থাকা এই প্রতিযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীরাই আরও উন্নত, দ্রুত ও সহজলভ্য এআই সেবার সুফল পাবেন।

সূত্র: টেকজুম

সাবরিনা রিমি/