রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির সেবার মান ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, বিআরটিসির প্রতিটি বাস থেকেই বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিআরটিএ আয়োজিত চালকদের দক্ষতা ও শব্দদূষণ সচেতনতামূলক এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “বিআরটিসির যত বাস আছে, সবকটা বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। আমি এটি চ্যালেঞ্জ করে গেলাম। আমরা কি এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হওয়ার পরও কেন আমাদের এখনো পুরোনো ও লক্কড়-ঝক্কড় বাসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং কেন এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না।
পুরোনো যানবাহন সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ‘স্ক্র্যাপ পলিসি’ বা ধ্বংসকরণ নীতিমালার ধীরগতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, গত বছরের ২৮ অক্টোবরের মধ্যে এই নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা যদি কয়েকটা দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠিন না হই, তবে আর কেউ নিয়ম মানবে না।”
চালকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, অকারণে হর্ন বাজানো ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি অন্যের কষ্টের কারণ। হর্ন বাজানো বন্ধ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির গতি কমে আসবে এবং সড়ক দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে। তিনি বিআরটিএ-কে নির্দেশ দেন যেন চালকদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্বশীল ড্রাইভিংয়ের বিষয়ে কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিআরটিসি ও বিআরটিএর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন এবং পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদও এ সময় দূষণমুক্ত সড়ক নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
–লামিয়া আক্তার










