গাড়ি ও ইলেকট্রনিক পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দেশটি বাণিজ্যচুক্তির নির্ধারিত শর্ত মানছে না। এ কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘যেহেতু দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা আমাদের ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন করেনি, যা তাদের নিজস্ব অধিকার, তাই আমি দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি, কাঠ, ওষুধপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যে পাল্টা শুল্ক ১৫ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করছি।’

তবে এই শুল্ক বৃদ্ধি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তবে সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া বিদেশি পণ্যের অন্যতম বড় উৎস দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া প্রধানত মার্কিন বাজারে গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহ করে থাকে। বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে এসব পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জুলাই মাসে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই চুক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কহার ১০ থেকে ২৫ শতাংশে বাড়ানো ঠেকিয়েছিল। চুক্তিতে আমদানি করা গাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার কথাও উল্লেখ ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়া বা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি হওয়া সব পণ্যের ওপর একযোগে শুল্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্কসংক্রান্ত মামলার রায়ের কারণে সীমিত হতে পারে।

এই মামলায় নির্ধারণ করা হবে, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সব পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করার আইনগত ক্ষমতা ট্রাম্পের ছিল কি না।

যদি বিচারকেরা বর্তমান প্রশাসনের বিপক্ষে রায় দেন, তাহলে ট্রাম্প সম্ভবত নির্দিষ্ট দেশ থেকে আমদানি হওয়া সব পণ্যের শুল্কহার তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করতে পারবেন না।

সূত্র: সিএনএন