বিশ্বকাপ না খেললে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ক্ষতি ও প্রভাব

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া পোস্টে মহসিন নকভি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে এবং তিনি সব বিকল্প বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে, বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে গিয়ে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার অনিচ্ছা প্রকাশ করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। পরে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি আইসিসির সিদ্ধান্তকে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ বলে আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আইসিসি দেশটির সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের পক্ষে একমাত্র পাকিস্তানই ভোট দেয়। উল্লেখ্য, এর আগে বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার কথা রয়েছে।

সম্ভাব্য ক্ষতি ও প্রভাব

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করলে পাকিস্তান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল আইসিসি থেকে প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার পাওয়ার সুযোগ হারাবে। এছাড়া ম্যাচ-সংক্রান্ত আয় ও পুরস্কারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

পাশাপাশি, আইসিসির মিডিয়া স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলারও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। চলমান অর্থনৈতিক সংকটে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইসিসি অনুমোদিত কারণ ছাড়া কোনো দল টুর্নামেন্ট বর্জন করলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে: আর্থিক জরিমানা, ভবিষ্যৎ আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত, এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি ও পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য এনওসি বাতিল।

পাকিস্তান না খেললে সুযোগ পাবে কে?

যদি পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিংধারী দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সে ক্ষেত্রে উগান্ডা পাকিস্তানের স্থানে গ্রুপ ‘এ’-তে সুযোগ পেতে পারে। গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ভারত, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস।

উগান্ডা এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। পাপুয়া নিউগিনির বিরুদ্ধে জয়লাভ করা এই দলের আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে হারের রেকর্ড রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, বা শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করবে, তা সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

-সাইমুন