নিজের অভিনয় দক্ষতা, সাহসী উপস্থিতি আর স্পষ্টবাদী মন্তব্যের জন্য বারবার আলোচনায় উঠে আসেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনয়ের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির নানা অসংগতি নিয়েও তিনি বরাবরই মুখ খুলতে দ্বিধা করেন না। সম্প্রতি নতুন একটি কাজ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফের একবার টলিউডের অন্ধকার দিক, কাস্টিং সংস্কৃতি এবং নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কিছু আক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন এই অভিনেত্রী।
স্বস্তিকার মতে, অভিনয় যদি শতভাগ সঠিক হয়, তবে জনপ্রিয়তা, সোশ্যাল মিডিয়া ইমেজ কিংবা অন্য কোনো সমীকরণের প্রয়োজন পড়ে না। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন অভিনেতার প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার কাজের মাধ্যমে, সংখ্যার বিচারে নয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করলেও, তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন—এই ধরনের চরিত্রের জন্য এতদিন কেউ তাকে ভাবেননি। বর্তমান প্রজেক্টটি তাই তার কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
স্বস্তিকা বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্যি, এত বছরের কেরিয়ারে এই ধরনের চরিত্রের জন্য আমাকে কেউ ভাবেনি। আমি যে শুধু কথার কথা বলি না, সেটা হয়তো এতদিনে সবাই বুঝে গিয়েছেন।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিভার পাশাপাশি কিছু অদৃশ্য দেয়াল এখনও রয়ে গেছে, যা অনেক সময় যোগ্য শিল্পীদেরও আটকে দেয়।
বর্তমান সময়ের কাস্টিং প্রক্রিয়া নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বস্তিকা। তার মতে, এখন অভিনয়ের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার কত ফলোয়ার—এই বিষয়টিই অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রবণতাকে তিনি “অদ্ভুত” বলেই মনে করেন। কারণ একজন অভিনেতার কাজের সঙ্গে তার সোশ্যাল মিডিয়া জনপ্রিয়তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলেই তার বিশ্বাস।
এই কারণেই নতুন কাজটিতে রাজি হওয়ার আগে পরিচালক অভিরূপের কাছে স্পষ্ট শর্ত দিয়েছিলেন স্বস্তিকা। তিনি জানান, “আমি পরিষ্কার বলেছিলাম—যদি সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার দেখে বাকি চরিত্রগুলো নির্বাচন করা হয়, তবে আমি এই কাজটা করব না।” তার এই অবস্থান শুধু নিজের জন্য নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকে।
স্বস্তিকার কথায়, অভিনয়টাই আসল। কাজ ঠিকঠাক করলে জনপ্রিয়তা আপনাআপনি আসবে। জোর করে তৈরি করা পরিচিতি বা সংখ্যার মোহ দিয়ে শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। তিনি বিশ্বাস করেন, পরিচালক ও টিম তার এই অবস্থান বুঝেছেন বলেই কাজটি সম্ভব হয়েছে।
শেষে স্বস্তিকা বলেন, “আমার থেকে যদি ওরা মাটিতে পা দিয়ে চলা শিখতে পারে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।” তার এই বক্তব্য শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—প্রতিভার মূল্য যেন কখনও সংখ্যার নিচে চাপা না পড়ে।
বিথী রানী মণ্ডল/










