বিশ্ব সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তিদের তালিকায় এবার নতুন এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ হলো পপ কুইন টেইলর সুইফটের নামে। বয়স মাত্র ৩৬, অথচ এই বয়সেই তিনি এমন এক সম্মান অর্জন করতে যাচ্ছেন, যা সংগীতজগতে খুব কম শিল্পীর ভাগ্যেই জোটে। ৩৩ বছর বয়সে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী স্টিভ ওয়ান্ডার যে রেকর্ড গড়েছিলেন, টেইলর সুইফট এবার সেই তালিকায় তার ঠিক পাশেই নিজের নাম বসাতে চলেছেন। ‘সংরাইটার্স হল অব ফেম’ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম গীতিকার হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান পাচ্ছেন টেইলর সুইফট।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সংরাইটার্স হল অব ফেম’-এ স্থান পাওয়ার জন্য কিছু কঠোর শর্ত রয়েছে। কোনো গীতিকারের প্রথম গান প্রকাশের পর অন্তত ২০ বছর পার হতে হয় এবং তার ঝুলিতে থাকতে হয় একাধিক কালজয়ী গান। টেইলর সুইফট এই সব শর্ত বহু আগেই পূরণ করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের লেখা গানের জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন, যা তাকে সমসাময়িক শিল্পীদের থেকে ভিন্ন করেছে।
আগামী ১১ জুন নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হবে। এই অনুষ্ঠানে টেইলর সুইফটের সঙ্গে একই বছরে হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী শিল্পী। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যালানিস মরিসেট, কেনি লগিনস এবং কিংবদন্তি রক ব্যান্ড কিস-এর সদস্য পল স্ট্যানলি ও জিন সিমন্স। অর্থাৎ এক মঞ্চেই সংগীতের নানা ধারার তারকারা মিলিত হতে যাচ্ছেন।
এই ঘোষণা দেওয়ার সময় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সিবিএস মর্নিংস-এ সংস্কৃতি বিশ্লেষক অ্যান্থনি ম্যাসন বলেন, ‘তারা মূলত আমাদের জীবনের শব্দবলি লিখেছেন। তাদের গানেই আমরা নাচি, কাঁদি কিংবা আনন্দে মেতে উঠি।’ তার এই মন্তব্যই বোঝায়, কেন একজন গীতিকার শুধু সংগীতশিল্পী নন, বরং মানুষের আবেগ, স্মৃতি আর জীবনের সঙ্গী হয়ে ওঠেন।
পুরস্কারের দিক থেকেও তার অর্জন ঈর্ষণীয়। তিনি এখন পর্যন্ত ১৪টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। এর মধ্যে চারবার পেয়েছেন সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’। এই সাফল্যই প্রমাণ করে, শুধু জনপ্রিয়তা নয়, গুণগত মানের বিচারেও তিনি সময়ের সেরা শিল্পীদের একজন।
বিলবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তার সাম্প্রতিক অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ আধুনিক যুগের যেকোনো অ্যালবামের তুলনায় প্রথম সপ্তাহেই সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড গড়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য টর্চারড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট’ অ্যালবামটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০ লাখ কপি বিক্রি হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষে অবস্থান করেছে।
২০২৫ সালের মে মাসে টেইলর সুইফট আরেকটি ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি তার প্রথম ছয়টি অ্যালবামসহ সব মাস্টার রেকর্ডিংয়ের পূর্ণ মালিকানা ফিরে পান। এটি শুধু তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং শিল্পীদের অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগেই তার রেকর্ড ভাঙা ‘ইরাস ট্যুর’ এবং সেই ট্যুরকে ঘিরে নির্মিত কনসার্ট ফিল্ম ও ছয় পর্বের ডকুমেন্টারি সিরিজ ডিজনি প্লাসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
সব মিলিয়ে বলা যায়, টেইলর সুইফট এখন আর শুধু একজন পপ তারকা নন। তিনি এক প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, গল্পকার এবং সংগীত ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়। ‘সংরাইটার্স হল অব ফেম’-এ তার অন্তর্ভুক্তি সেই সত্যকেই নতুন করে প্রতিষ্ঠা করল।
বিথী রানী মণ্ডল/










