দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে জবির সাবেক ভিসি মীজানুর

অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম এবং নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আলোচিত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক সিফাত উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান টিম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ড. মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে উপাচার্য থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম এবং পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।
২০১৯ সালের অক্টোবরে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের সময় ড. মীজানুর রহমান এক টকশোতে মন্তব্য করেছিলেন যে, যুবলীগের দায়িত্ব পেলে তিনি উপাচার্যের পদ ছেড়ে দিতে রাজি আছেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “জবি উপাচার্য হলেও আমি এখনো যুবলীগের এক নম্বর সদস্য। সংগঠনের ভাবমূর্তি উদ্ধারে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে আমি তা সাদরে গ্রহণ করব।” উপাচার্যের মতো একটি প্রশাসনিক পদে থেকেও একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পদের প্রতি এমন আগ্রহ সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই তাঁকে তলব করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে সংগৃহীত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ড. মীজানুর রহমান দুই মেয়াদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সময়ে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্পসহ বিভিন্ন কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
লামিয়া আক্তার