ত্বকে হলুদের গুঁড়া লাগানোর উপকারিতা বহু প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত। আয়ুর্বেদ ও ঘরোয়া সৌন্দর্যচর্চায় হলুদ একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বকের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
নিয়মিত ত্বকে হলুদের গুঁড়া ব্যবহার করলে ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমাতে সাহায্য করে। হলুদ ত্বকের ভেতরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে নতুন করে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে এটি ত্বকের লালচে ভাব ও প্রদাহ কমিয়ে ত্বককে শান্ত করে।
হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও কার্যকর। অনেক সময় ত্বক নিস্তেজ ও প্রাণহীন দেখায়, সেখানে হলুদ রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রং সমান হয় এবং ট্যান বা রোদে পোড়া দাগ হালকা হতে শুরু করে।
ত্বকের ছোটখাটো ক্ষত, কাটা-ছেঁড়া বা ইনফেকশনে হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। এটি দ্রুত ক্ষত শুকাতে সহায়তা করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া হলুদ ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণের কারণে ফাইন লাইন ও রিঙ্কেল দেরিতে দেখা দেয়।
হলুদ ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে এবং মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক হয় নরম ও মসৃণ। দুধ, মধু বা দইয়ের সঙ্গে হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক হিসেবে ব্যবহার করলে উপকার আরও বাড়ে। তবে সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহার করার আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে হলুদ হতে পারে ত্বকের যত্নে এক সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান।
বিথী রানী মণ্ডল/










