৫৪ বছর বয়সে গায়ক অভিজিৎ মজুমদারের অকালপ্রয়াণ

সঙ্গীতজগতে নেমে এলো শোকের গভীর ছায়া। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে করতে অবশেষে হার মানলেন ওড়িয়া চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক অভিজিৎ মজুমদার। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে তার মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা ওড়িয়া বিনোদন ইন্ডাস্ট্রি। রবিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

অভিজিৎ মজুমদার ছিলেন ওড়িয়া ছবির এক সময়ের অন্যতম সফল ও ব্যস্ত সঙ্গীত পরিচালক। অসংখ্য সুপারহিট সিনেমার গান তার হাত ধরেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। রোমান্টিক গান হোক বা আবেগঘন সুর—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল তার স্বতন্ত্র ছাপ। শুধু সুরকার হিসেবেই নয়, একজন গায়ক হিসেবেও তিনি দর্শক-শ্রোতার কাছে সমান জনপ্রিয় ছিলেন।

প্রায় দুই মাস পর, নভেম্বর মাসে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। তখন চিকিৎসকেরাতাকে আইসিইউ থেকে মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করেন। সেই সময় তিনি সচেতন ছিলেন এবং ট্র্যাকিওস্টোমি টিউবের মাধ্যমে চিকিৎসকদের সাধারণ নির্দেশে সাড়া দিচ্ছিলেন। এমনকিতাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছিল। তবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কিছু কারণে সেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে যান অভিজিৎ। এরপরতাকে ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই দীর্ঘ সময় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার একাধিক শারীরিক জটিলতা ছিল। স্নায়ুর সমস্যা, নিউমোনিয়া ছাড়াও লিভারের জটিলতা, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং রক্তসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত ২৩ জানুয়ারি আবারও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হঠাৎ করেই নানা জটিলতা বেড়ে যায় এবং চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রবিবার সকালে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।

অভিজিৎ মজুমদারের প্রয়াণে ওড়িয়া চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের মাতম। শিল্পী, পরিচালক, গায়ক ও প্রযোজকেরা সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, তার মৃত্যুতে ওড়িয়া সঙ্গীতজগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো। সুরের যে জাদু তিনি রেখে গেলেন, তা ওড়িয়া সিনেমার ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিথী রানী মণ্ডল/