দম্পতির চেয়ে আমরা ভালো বন্ধু- সীমা

প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর দীর্ঘ ২৪ বছরের সংসার—সবশেষে আচমকা বিচ্ছেদ। বলিউড অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল খান এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সীমা সাজদেহের সম্পর্ক ভাঙার খবর চার বছর আগেই সামনে আসে। তবে বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত, সেই সময়ের মানসিক চাপ এবং বর্তমান জীবনের বাস্তবতা নিয়ে এবার খোলাখুলি কথা বললেন সীমা।

সম্প্রতি একটি চ্যাট শোতে অংশ নিয়ে সীমা জানান, অল্প বয়সে বিয়ে করার কারণেই হয়তো সময়ের সঙ্গে তাঁদের দু’জনের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। তাঁর ভাষায়, বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। খুব কম বয়সেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। একসঙ্গে বড় হতে হতে দু’জনেই বদলে গেছেন। ধীরে ধীরে তাঁরা বুঝতে পারেন, স্বামী–স্ত্রীর চেয়ে বন্ধু হিসেবে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে বেশি মানানসই।

বিচ্ছেদের পরের সময়টা যে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল, সেটাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। সীমা বলেন, কোনো নারীই বিচ্ছেদ চান না। এই সিদ্ধান্ত তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তিনি অবসাদে ভুগেছেন, একই অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সন্তানদেরও। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তাঁদের বহু বছর লেগেছে। বিশেষ করে সন্তানদের মানসিক অবস্থার কথা ভেবেই তাঁরা সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছেন।

সীমা বলেন, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কোনো হঠকারী পদক্ষেপ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে ভেবেচিন্তেই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। প্রতিদিনের অশান্তি ও ঝগড়ার চেয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তাঁদের কাছে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছিল। ঘরের পরিবেশ নষ্ট হোক, তা তাঁরা কেউই চাননি। যদিও তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে, তবু পরিবার হিসেবে তাঁরা আজও একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। সোহেল যে তাঁর দুই সন্তানের বাবা, সেটি কখনোই বদলাবে না—এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান সীমা।

বিয়ে ভাঙার দায় কার—এই প্রশ্নে কাউকে আলাদা করে দোষ দিতে চান না সীমা। তাঁর মতে, একটি সম্পর্কে দু’জন মানুষ থাকেন, তাই সম্পর্ক ভেঙে গেলে দায়ও দু’জনেরই। অল্প বয়সে বিয়ে করা কোনো অপরাধ নয়, আবার সেটিকে দোষ হিসেবেও দেখেন না তিনি। সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও শান্তির কথা মাথায় রেখেই তাঁরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান সীমা।

বর্তমানে সীমা সাজদেহ তাঁর ছোটবেলার বন্ধু বিক্রম আহুজার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। নতুন করে জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

বিথী রানী মণ্ডল/