পানি কখনো তরল, কখনো বরফ, আবার কখনো বাষ্পে রূপান্তরিত হয় এই সাধারণ সত্য বিজ্ঞানীরা নতুনভাবে উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, পদার্থের এমন দুই ভিন্ন অবস্থা একসঙ্গে বিরলভাবে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এর বিজ্ঞানীরা পদার্থবিজ্ঞানের একটি নতুন কোয়ান্টাম অবস্থা আবিষ্কার করেছেন, যা বিজ্ঞানীদের দুই ভিন্ন জগৎকে একত্রিত করার পথ খুলে দিয়েছে।
গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার ফিজিকস সাময়িকীতে। এতে বলা হয়েছে, নতুন এই কোয়ান্টাম অবস্থায় ইলেকট্রন একই সঙ্গে থাকে অত্যন্ত অস্থির এবং অত্যন্ত স্থিতিশীল অবস্থায়। অস্থিরতা বা কোয়ান্টাম ক্রিটিক্যালিটি এমন মুহূর্তের সঙ্গে তুলনীয়, যখন পানি বরফে রূপান্তরের ঠিক আগে থাকে। অন্যদিকে, টপোলজি ইলেকট্রনের তরঙ্গাকৃতি বা প্যাঁচকে নির্দেশ করে, যা অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং সহজে নষ্ট হয় না।
আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, এই দুটি অবস্থা একসঙ্গে থাকতে পারে না ক্রিটিক্যাল অস্থিরতা স্থিতিশীল টপোলজি নষ্ট করে দেবে। কিন্তু নতুন গবেষণা প্রমাণ করেছে, এই দুই শক্তি একে অপরকে পরিপূরক করে নতুন ধরনের পদার্থের অবস্থা তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এটিকে প্রযুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে “গোল্ডিলকস জোন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে তৈরি করা কোয়ান্টাম কম্পিউটার সহজে ক্র্যাশ হবে না। পাশাপাশি, চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর মাধ্যমে এত সূক্ষ্ম সেন্সর তৈরি করা সম্ভব হবে, যা বর্তমান প্রযুক্তির চেয়ে আরও সুনির্দিষ্ট সংকেত শনাক্ত করতে পারবে। বিদ্যুৎ পরিবহনে এমন উপাদান ব্যবহার করলে কোনো শক্তি অপচয় হবে না, ফলে ইলেকট্রনিক্স অনেক বেশি সাশ্রয়ী হবে।
রাইস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী কিমিয়াও সি বলেছেন, “এটি পদার্থবিজ্ঞানে মৌলিক অগ্রগতি। দুটি ভিন্ন অবস্থা একত্রিত করার মাধ্যমে আমরা এমন উপাদান ডিজাইন করতে পারব, যা আগে অসম্ভব মনে হতো। আমরা মূলত মহাবিশ্বের গভীরতম নিয়ম ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের গ্যাজেট তৈরির পথে একটি বড় পদক্ষেপ এগিয়েছি।”
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
সাবরিনা রিমি/










