ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। দুই দিনের সরাসরি বৈঠক শেষে তিন দেশ এ বিষয়ে একমত হয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। তার ভাষায়, আলোচনা ছিল গঠনমূলক। তিনি বলেন, চাইলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই পরবর্তী বৈঠক হতে পারে।
তবে আলোচনার মধ্যেই নতুন করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া—এমন অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন। দ্বিতীয় দিনের আলোচনার আগের রাতে রাশিয়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে দাবি কিয়েভের। এতে তীব্র শীতের মধ্যে লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ইউক্রেন এই হামলাকে আলোচনাকে দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা হয়েছে। পুরো বৈঠক শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে যুদ্ধক্লান্ত কিয়েভবাসী এই আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন না। টানা হামলার কারণে অনেকেই রাত কাটিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্র বা গাড়ির ভেতর। এক বাসিন্দা বলেন, বলা হবে সবকিছু ভালো চলছে। কিন্তু আলোচনায় কোনো ফল আসবে না। আবারও রকেট হামলা হবে। আরেকজন জানান, পরিস্থিতি বদলাবে—এমন আশা তার নেই।
আমিরাতের মুখপাত্রের মতে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর (যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক রূপরেখা) কিছু অসম্পূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কিও বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য শর্তগুলোই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।
তবে এখনো বড় বাধা হয়ে আছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দোনবাস এলাকার ভবিষ্যৎ। এই অঞ্চল কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এ প্রশ্নেই এখনো সমাধান আসেনি। রাশিয়া আগেই জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা শক্তি প্রয়োগ করে ওই অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
_সাইমুন










