দামেস্ক, সিরিয়া: সিরিয়ার সেনাবাহিনী এবং কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ১৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো এসডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণাধীন কারাগারগুলো থেকে আইএসআইএল (আইএসআইএস) বন্দীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একটি অভিযানকে সমর্থন করা।[1][2][3]
শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে এই বর্ধিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।[3] কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফও এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, এই চুক্তি উত্তেজনা কমাতে, বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে এবং স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করতে সহায়ক হবে।[2]
উত্তেজনার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস
এই ঘোষণায় সিরিয়াজুড়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ে সরকারি বাহিনী এসডিএফ-এর কাছ থেকে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছিল।[1][4] মঙ্গলবার একটি চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, যখন সরকারি বাহিনী উত্তর-পূর্বে কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।[1] শনিবার রাতে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, যা নিয়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
কেন এই যুদ্ধবিরতি?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রধান কারণ হলো এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত কারাগার থেকে আইএসআইএস সদস্যদের ইরাকে স্থানান্তর করার মার্কিন অভিযানকে সহজতর করা।[2][3] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ঘোষণা করেছে যে তারা সিরিয়া থেকে আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট বন্দীদের ইরাকে স্থানান্তর শুরু করেছে। পেন্টাগনের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৭,০০০ বন্দীকে ইরাকি-নিয়ন্ত্রিত স্থানগুলোতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।[5][6][7]
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, “আইএসআইএস-এর স্থায়ী পরাজয় নিশ্চিত করতে আমরা ইরাক সরকারসহ আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছি।”
মূল সংকট এখনও অমীমাংসিত
তবে এই যুদ্ধবিরতি স্বস্তি আনলেও মূল সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের প্রধান কারণ হলো এসডিএফ যোদ্ধা এবং তাদের বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একীভূত করার চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা।[2][8]
গত বছরের মার্চ মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার এসডিএফ-এর সঙ্গে এই বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে মতবিরোধের জেরে আলোচনা ভেস্তে যায় এবং দেশজুড়ে মারাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয়।[2]
সাম্প্রতিক সংঘাতে সরকারি বাহিনী দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র, জলবিদ্যুৎ বাঁধ এবং আইএসআইএস বন্দীদের রাখার কিছু সুবিধাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।[1] এর মধ্যে রাক্কা প্রদেশের আল-আকতান কারাগারও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও এসডিএফ উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার জন্য ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার ভঙ্গুরতাকে স্পষ্ট করে।[3] এসডিএফ-এর একীভূতকরণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










