একদিকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরোর পতন, অন্যদিকে ইরানে সরকারবিরোধী উত্তাল বিক্ষোভ—পুরো বিশ্ব যখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এক রহস্যময় নীরবতা বজায় রাখলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে নতুন রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং বিশ্ব দিন দিন আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠছে।
চলতি বছরে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এটিই পুতিনের প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। তবে অবাক করার বিষয় হলো, বক্তৃতায় তিনি ভেনেজুয়েলা বা ইরানের সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। এমনকি গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত হুমকি নিয়েও তাকে নিশ্চুপ থাকতে দেখা গেছে।
ক্রেমলিনের এই অনুষ্ঠানে পুতিন মৃদু হেসে বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে—আমি মনে করি না কেউ এ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করবে। দীর্ঘদিনের সংঘাতগুলো আরও তীব্র হচ্ছে এবং নতুন, গুরুতর উত্তেজনাকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে।”
বক্তৃতায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করলেও পুতিনের নিশানায় যে ওয়াশিংটন ছিল, তা স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমরা এমনদের কাছ থেকে একতরফা ভাষণ শুনছি, যারা শক্তির জোরে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া, অন্যদের উপদেশ দেওয়া এবং আদেশ জারি করাকে বৈধ মনে করে।”
পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রাশিয়া একটি ‘বহুমুখী বিশ্ব’ গঠনের আদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে কোনো একক দেশ নিজের ইচ্ছা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এখন শীতলতম পর্যায়ে। এই উত্তেজনার মধ্যেই পুতিন ইউরোপে একটি ‘নতুন নিরাপত্তা কাঠামো’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিশ্বনেতারা শিগগিরই এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন। পুতিন সাফ জানিয়ে দেন, যতদিন এই স্বীকৃতি না আসবে, ততদিন রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে তার নিজস্ব লক্ষ্য ও স্বার্থ রক্ষা করে যাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরান ইস্যুতে পুতিনের এই নীরবতা হতে পারে ঝড়ের পূর্বাবাস। মাদুরোর পতন বা ইরানের অস্থিরতা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে তিনি সম্ভবত সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন অথবা পর্দার আড়ালে নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক চাল চালছেন।
-এম এইচ মামুন










