ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলার সুযোগ খুঁজছে। তিনি এই আশঙ্কার কথা সরাসরি তেহরানের নেতৃত্বকেও জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

ফিদান জানান, গত বছরের ৩০ নভেম্বর তেহরানে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েল যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

গতকাল শুক্রবার এনটিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, “আমি আশা করি তারা অন্য কোনো পথ খুঁজবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো ইসরায়েল বিশেষভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে।”

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন। এরদোয়ান জানিয়েছেন, তুরস্ক ইরানে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়।

ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যেকোনো আক্রমণকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে। তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে, তবে আমরা কঠোর জবাব দেব। আমাদের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী ও সহযোগী জাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা করছে। কয়েক দিনের মধ্যেই নৌবহর সেখানে পৌঁছাবে।

ইরানি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলাটি সীমিত হোক বা বড়—তাদের দৃষ্টিতে যেকোনো আক্রমণই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে এবং তারা তা মোকাবিলা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছিল। এটি ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ ছিল।

-আফরিনা