ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২৮

ইরানে সরকারবিরোধী চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জনে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)’ বুধবার তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে শত শত বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৯০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। আইএইচআরের তথ্যমতে, শুধু ৮ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নিহতদের বড় অংশই ৩০ বছরের কম বয়সী এবং তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

তবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ও সিবিএস নিউজের মতো কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে, যদিও এর নিরপেক্ষতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী মেশিনগান ব্যবহার করছে। রাজপথে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কারাজ শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মরদেহের সঙ্গে ‘সেলফি’ তুলতেও দেখা গেছে। কুর্দি-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে অঘোষিত সামরিক আইন জারি করে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

নেটব্লকস জানিয়েছে, ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহির্বিশ্ব থেকে ইরান কার্যত বিচ্ছিন্ন। আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, “১৯৮০-এর দশকের মতো অপরাধ করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাইছে শাসকরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পদক্ষেপ না নিলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটবে।”

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

-তথ্যসূত্রঃ নেটব্লকস

-এম. এইচ. মামুন