আইনুন পুতুলের যাত্রা মঞ্চ থেকে পর্দায়

মঞ্চের আলোয় প্রথম পা রাখা এক স্বপ্নবাজ তরুণী, যার চোখে ছিল অভিনয়ের অদম্য আকাঙ্ক্ষা আর বুকভরা সাহস। নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনের পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি—দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আইনুন পুতুল।

থিয়েটার তার অভিনয় জীবনের মূল ভিত্তি। ছোটবেলা থেকেই থিয়েটারে কাজ করা পুতুলকে পরবর্তী সময়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে পড়াশোনার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পেছনে তার বান্ধবী তৃণার সাহায্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০০৬ সালে ‘ঘাটের কথা’ নাটকে কুসুম চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা এই শিল্পী হ‍ুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। ‘ঘেটুপুত্র কমলা’সহ নানা উল্লেখযোগ্য কাজের মাধ্যমে তিনি শোবিজ অঙ্গনে নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। তবে পর্দার ঝলমলে আলোর আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ সংগ্রাম, নীরব লড়াই এবং না বলা বহু গল্প।

আইনুন পুতুলের অভিনয় জীবন শুরু হয় ২০০৬ সালে। প্রথম কাজ ছিল নাটক ‘ঘাটের কথা’, যেখানে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই সময় তিনি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার নিজের কাজটি টিভিতে দেখার আনন্দের সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের প্রশংসা পাওয়াটিও ছিল এক অসাধারণ অনুভূতি।

হ‍ুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করা তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ‘জহির কারিগর’ নাটক দিয়ে তিনি স্যারের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নাটক ও সিনেমায় হ‍ুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। শুটিং সেটে হ‍ুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একদম শিশু মনোজগতের মতো—গল্প লিখতে লিখতে চেয়ারে পা তুলে বসতেন, সঙ্গে সঙ্গে ডায়ালগ লিখতেন এবং দিকনির্দেশনা দিতেন।

সম্প্রতি পুতুল শুটিং সেটে খাবারের বৈষম্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সিনিয়র আর জুনিয়র শিল্পীদের খাবারে পার্থক্য প্রদর্শন দৃষ্টিকটু লাগে। শিল্পীদের সম্মান সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত।

প্রায় দুই দশক অভিনয় জগতে কাটানোর অভিজ্ঞতায় তিনি নবাগত শিল্পীদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমানের তরুণরা খুবই ট্যালেন্টেড এবং দ্রুত সফলতা অর্জন করছে। তার কাছে এটি আনন্দের বিষয়, যদিও তার নিজের সময়ে সফলতা আসতে দেরি হতো। তিনি নবাগতদের উৎসাহিত করে বলেন, তাদের দক্ষতা দিয়ে শিল্পী হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আইনুন পুতুলের গল্প একদিকে মঞ্চ থেকে পর্দার যাত্রার রোমাঞ্চকর স্মৃতি তুলে ধরে, অন্যদিকে শিল্পীর সংগ্রাম, ধৈর্য্য এবং প্রতিভার সঙ্গে সফলতার মিশ্রণকে ফুটিয়ে তোলেন।

-বিথী রানী মণ্ডল