দক্ষিণ আমেরিকার তরুণ ফুটবলারদের প্রতি ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর আগ্রহ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ব্রাজিলের কিশোর প্রতিভাদের দিকে সবসময়ই বাড়তি নজর থাকে। ভবিষ্যৎ তারকা খুঁজে বের করতে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর স্কাউটরা নিয়মিতই ব্রাজিলের মাঠে হাজির থাকেন। এবার সেই তালিকায় নতুন করে উঠে এসেছে বার্সেলোনার আগ্রহে থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড এদুয়ার্দো কনসেইসাও।
এন্ড্রিক ফেলিপে, এস্তেভাও ও ভিতোর রেইসকে বড় অঙ্কে বিক্রি করার পর পালমেইরাসের আরেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে আলোচনায় এসেছেন ১৬ বছর বয়সী কনসেইসাও। সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কোপিনহা অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নজর কেড়েছেন ফুটবলবিশ্বের। ব্রাজিলের সেরা কিশোর ফুটবলারদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তিনিই ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত নাম।
স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্ত–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরেই কনসেইসাওয়ের এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বার্সেলোনার ডিরেক্টর অব ফুটবল ডেকো ও প্রধান স্কাউট জোয়াও আমারাল। সেই বৈঠকে কনসেইসাওয়ের প্রতি বার্সেলোনার আগ্রহের কথা জানানো হয় এবং তার পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। যদিও ইউরোপের আরও কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবও তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে।
চলতি মাসে অনুষ্ঠিত লা কোপিনহা টুর্নামেন্টে কনসেইসাওয়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য বার্সেলোনা আলাদাভাবে একজন স্কাউটও পাঠিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখছে কাতালান ক্লাবটি।
বর্তমানে পালমেইরাসের সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ কনসেইসাও। চুক্তিতে রাখা হয়েছে বিশাল ১০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ, ফলে তার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণে। ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর আগ্রহ ঠেকাতে ক্লাবটি আগে থেকেই সতর্ক ছিল। সে কারণেই চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোপিনহা থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কনসেইসাও ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ১৮ বছরে পা দেওয়ার পরই ইউরোপে খেলার সুযোগ পাবেন। ডেকো জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে তাকে দলে ভেড়ানোর কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই বার্সেলোনার। তবে ভবিষ্যতে যখন কনসেইসাও ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার যোগ্য হবেন, তখন ক্লাবটি আর্থিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে থাকবে বলে আশাবাদী তারা।
এর আগেও ডেকোর উদ্যোগে বার্সেলোনা ভিতোর রোকে-কে দলে টানতে অ্যাথলেটিকো পারানায়েন্সকে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করেছিল। যদিও কাতালান ক্লাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড, বর্তমানে তিনি পালমেইরাসেই খেলছেন। সেই অভিজ্ঞতা পুরোপুরি সফল না হলেও, ব্রাজিলিয়ান প্রতিভা নিয়ে বার্সেলোনার আগ্রহ যে থেমে নেই, কনসেইসাওয়ের প্রতি নজরই তার প্রমাণ।
-মীর মোমিন










