অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সুযোগ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব নিয়ে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসাবে আমার প্রধান দায়িত্ব মার্কিন জনগইের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়ন। এই এজেন্ডা যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও অগ্রগামী করবে।
বর্তমান প্রশাসন ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রথম’ এই নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ‘যুক্তরাষ্ট্রই একা’। আমি বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার অনেক সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কে ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। আমি আগামী মাসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নির্বাচন দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।
গতকাল রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এ সব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বললেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, আগামী নির্বাচন কিভাবে আয়োজন করা হয়, তার ওপর আমরা নজর রাখব। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেয় না। কোন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হবে, তা বাংলাদেশের মানুষের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এতে অন্য কোনো দেশের কথা বলার অধিকার নেই। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সাথে কাজ করবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। আমি এমন একটা দেশে ফিরতে পেরে আনন্দিত যে দেশকে আমি ভালোভাবে চিনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা কী- জানতে চাওয়া হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি আশা করব নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে সবচেয়ে ভালো কাজগুলো করবে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচিত সরকারের সাথেও এই সম্পর্কে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আমি আশাবাদী। আর ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং সন্ত্রাসবাদ দমনসহ নিরাপত্তা। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষা করে আমরা কাজ করে যেতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আমাদের ভালো কাজ হয়েছে। আমরা আশা করব, নির্বাচিত সরকারের সময়ে ব্যবসার জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যাতে আরো বেশি সংখ্যক মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে আসতে পারে। এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তা আমরা কাজে লাগাতে চাই।
বংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড আরোপ এবং অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততাকে কিভাবে প্রভাবিত করবে- প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্তকে আরো সুরক্ষিত করা এবং অবৈধ অভিবাসনকে মোকাবেলা করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে
যুক্তরাষ্ট্রের আসা মানুষদের ভিসা শেষে অতিরিক্ত সময় অবস্থান, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার প্রভৃতি বিষয়ের ওপর আমরা নজর দিচ্ছি। এটা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির অংশ। বাংলাদেশসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ সব দেশ থেকে আসা মানুষদের ভিসা শেষে অতিরিক্ত সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার রেকর্ড রয়েছে। এই বাধ্যবাধকতা ব্যবসায়ী ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে নয়। (২১ জানুয়ারির) আগে থেকে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা রয়েছে, তাদের ওপর বন্ডের আওতায় নতুন বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত সময় না থাকা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য যে সরকারি সহায়তা দেয়া হয়, তার অপব্যবহার রোধে অভিবাসী ভিসায় স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। আমরা সরকারি সহায়তার অপব্যবহার বন্ধের উপায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব, যাতে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়।
-সাইমুন










