ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে ভারতীয় মুদ্রা রুপি। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার প্রভাবে রুপির মান ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ডলারের বিপরীতে রুপি ৯১ দশমিক ৫০-এর সীমা ছাড়িয়ে যাওয়াকে ভারতের মুদ্রাবাজারে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে গ্রীনল্যান্ডকে ঘিরে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের টালমাটাল অবস্থা। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে যাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রার ওপর—বিশেষ করে রুপির ওপর।
বাজার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা। রুপির আরও দরপতনের আশঙ্কায় আমদানিকারকরা ডলার মজুদে ঝুঁকছেন। বিপরীতে রপ্তানিকারকরা ডলার বাজারে ছাড়তে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে হঠাৎ করেই ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। স্পট রেট ও ফরোয়ার্ড প্রিমিয়াম বাজারেও এই প্রত্যাশিত অবমূল্যায়ন সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
পুঁজিবাজারের দুর্বলতা রুপির সংকটকে আরও গভীর করেছে। চলতি জানুয়ারির কয়েক দিনেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন ভারতীয় বাজার থেকে। গত বছর দেশটি রেকর্ড ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের পতন দেখে ভারতীয় শেয়ারবাজার, যখন একদিনেই বিদেশিরা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করেন।
কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রগতি না থাকায় নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আসাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা বলছেন, রুপির বর্তমান সংকট মূলত পুঁজি প্রবাহ কমে যাওয়ার ফল। তবে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) এখনো পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই দরপতন মূলত বিদেশি পুঁজি বহির্গমন ও আমদানিকারকদের অতিরিক্ত হেজিংয়ের ফল। তবে বাজারে যদি কৃত্রিম চাপ বা জল্পনাভিত্তিক কারসাজির ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আরবিআই কঠোর হস্তক্ষেপে যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বর্তমানে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রুপির এই পতন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
-সাইমুন










