ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে ভোটযুদ্ধে নামছেন তারা। রাজশাহী জেলার ৬টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও বিভিন্ন দলের মোট ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচারের কৌশল তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। তারা বলছেন, রাজশাহীর ৬টি আসনে বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ৬টি আসনের সবক’টিতেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের। এবারের নির্বাচনে এ জেলায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী লড়াই জমে উঠতে পারে।
যদিও বিএনপি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান থাকায় এই জেলায় বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দল ভোটের মাঠে হালে পানি পাবে না। তবে, উল্টো বক্তব্য জামায়াত সংশ্লিষ্টদের। রাজশাহী জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতিবাচক নানা অবস্থানের কারণে জামায়াত নির্বাচনের মাঠে বাড়তি সুবিধা পাবে।
এদিকে, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিললেও রাজশাহী জেলার বিভিন্ন আসনে ভোটে লড়ছেন জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এ জেলায় এনসিপির কোন প্রার্থী নেই।
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে এবার বড় ভূমিকা রাখতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার। নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার বাইরে ভোটের সময় পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথাও বলছেন অনেকে।
চব্বিশের গণআন্দোলনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটাররা অন্য দলগুলোর জন্য এবার বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া, তরুণ ভোটাররা, বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভোট দেবেন, তারাও জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব ভোটারদের যারা বেশি টানতে পারবেন, তারাই সফল হবেন। রাজশাহী জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, বরাবরের মত এবারও তাদের টার্গেট নারী ও তরুণ ভোটার। সে লক্ষ্যে তারা পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন। ভোটের মাঠে নারী ও তরুণদের বেশি আকৃষ্ট করা হবে। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর ছয়টি আসনেই বিএনপির দাপুটে অবস্থান ছিল। অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতেও তুলনামূলক ভালো ফল করেছে বিএনপি। তবে, ২০০৮ সালের পর সেখানে তাদের কোনো আসন ছিল না। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় পুরোনো ঘাঁট ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বিএনপির জন্য।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা অনেক আগে থেকেই মাঠে নেমেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াত রাজশাহীতে বেশ সক্রিয়। জেলার আসনগুলোতে জয় পেতে তারাও মরিয়া। তারা বলছে, আগের চেয়ে রাজশাহীর সব আসনে জামায়াতের কর্মী সমর্থকের সংখ্যা বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ের তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এ অবস্থায় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কোনো ধরনের কারসাজি না হলে জামায়াত এবার নতুন চমক দেখাবে।
রাজশাহী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রমতে, এবার যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা হলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির শরীফ উদ্দিন, জামায়াতের অধ্যাপক মজিবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. শাহজাহান ও আমার বাংলাদেশ পার্টির আবদুর রহমান।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে লড়ছেন বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতের ডা. মো. জাহাঙ্গীর, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাঈদ নোমান, নাগরিক ঐক্যের সামছুল আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম ও স্বতন্ত্র সালেহ আহমেদ।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির শফিকুল হক মিলন, জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুর রহমান ও আমজনতার দলের সাইদ পারভেজ।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে লড়ছেন, বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান, জামায়াতের আবদুল বারী সরদার, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জামায়াতের মনজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আলতাফ হোসেন মোল্লা এবং স্বতন্ত্র ইসফা খায়রুল হক ও রেজাউল করিম।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে বিএনপির আবু সাইদ চাঁদ, জামায়াতের নাজমুল হক, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস সালাম সুরুজ।
-সাইমুন










