দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩২.৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপিএম৬ অনুযায়ী নেট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭.৮৮ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে, আকুর দায় পরিশোধের পর গত নভেম্বর মাসে রিজার্ভ ৩১.১৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। রিজার্ভের এই শক্ত অবস্থান অর্থনীতিতে একধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ২৮৭ কোটি ডলার কিনেছে। মূলত অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও হুন্ডিপ্রবণতা কমে যাওয়ায় বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের রেমিট্যান্স বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১,৫০৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। উল্লেখযোগ্য, গত অর্থবছর প্রবাসী আয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

রেমিট্যান্সের এই বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে অর্থ প্রবাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দর ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের অর্থনীতি এখন আরও স্থিতিশীল এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি থাকায় অস্থিরতার সম্ভাবনা কম।

ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেলে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। এরপর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির কারণে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। তবে সম্প্রতি রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বৈধ বিনিময় ব্যবস্থার জোরদার হওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকরী নীতি রিজার্ভের পুনরুদ্ধার ঘটিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ঋণ, আমদানি ও বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় দেশের হাতে আরও শক্তিশালী হাতিয়ার থাকবে। অর্থনীতিতে এই পুনরুদ্ধার দেশের জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিথী রানী মণ্ডল/