অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো গাজার দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। বুধবার স্থানীয় বাসিন্দা ও হামাস সূত্র জানায়, ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ করছে। এদিকে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গাজার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন সমন্বয় কেন্দ্রে কর্মী পাঠানো বন্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। কারণ তারা দাবি করছে যে, এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকায় সাহায্য প্রবাহ বৃদ্ধি করতে বা রাজনৈতিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কূটনীতিকরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, আল রেকেব মহল্লার তাঁবুতে বসবাসরত পরিবারগুলোর ওপর লিফলেট ফেলা হয়। আরবি, হিব্রু ও ইংরেজি ভাষায় লেখা ওই লিফলেটে বলা হয়, জরুরি বার্তা। এলাকাটি আইডিএফের নিয়ন্ত্রণে। আপনাদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করতে হবে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বানি সুহাইলা শহরের আল রেকেব এলাকায় এসব লিফলেট ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের আগে টানা দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইসরাইল এমন লিফলেট ফেলত, যার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অভিযান বা বোমাবর্ষণ চালানো হতো।
ইসরাইল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে এবং পরবর্তী ধাপের আরও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেকদূরে। বানি সুহাইলা এলাকার বাসিন্দা মাহমুদ বলেন, উচ্ছেদের এই নির্দেশে অন্তত ৭০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবার তাঁবু ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে বসবাস করছিল। এদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার অধীনে অক্টোবরে দক্ষিণ ইসরাইলে বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র (সিএমসিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটিকে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, সাহায্য প্রবেশের সুবিধা প্রদান এবং ফিলিস্তিনি ভূখ-ের জন্য যুদ্ধপরবর্তী নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, মিসর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েক ডজন দেশ গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় প্রভাব রাখার জন্য সামরিক পরিকল্পনাকারী এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ কর্মীদের কেন্দ্রে পাঠিয়েছিল। কিন্তু আটজন বিদেশি কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের কর্মকর্তারা ক্রিসমাস এবং নববর্ষের ছুটির পর থেকে গাজা সীমান্তের কাছে অবস্থিত সিএমসিসিতে ফিরে আসেননি। বেশ কয়েকটি দেশ কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল।
এছাড়া একজন পশ্চিমা কূটনীতিক এটিকে ডিরেকশনলেস বলে বর্ণনা করেছেন। সবাই মনে করে এটি একটি বিপর্যয়, কিন্তু এর কোনো বিকল্প নেই। রয়টার্স বলছে- গাজা, গ্রিনল্যান্ড এবং ভেনিজুয়েলার প্রতি ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির কারণে ইউরোপের দেশগুলো সেনা পাঠানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে, যা আগে রিপোর্ট করা হয়নি। এটি ওয়াশিংটনের মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তির লক্ষণ বলেও মনে করছেন অনেকে। কিছু ইউরোপীয় সরকার এখন তাদের সিএমসিসি উপস্থিতি কমানোর কথা ভাবছে, অথবা কর্মী পাঠানো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার কথা ভাবছে, কূটনীতিকরা বলেছেন।
এদিকে গাজার যুদ্ধ বন্ধ ও উপত্যকাটির পুনর্গঠনের উদ্দেশে তৈরি করা বোর্ড অব পিস জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৮০ বছর আগে বিশ্বব্যাপী শান্তি আনতে প্রতিষ্ঠা হয় জাতিসংঘ। তবে ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের কারণে সংস্থাটি এখন ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে ট্রাম্প নিজেই জানালেন জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে তার তৈরি করা বোর্ড অব পিস। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, তিনি এ পদে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবেন।










