ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে তীব্র বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১০-এ পৌঁছেছে। আরও অন্তত ৮০ জন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে দেশটির কর্তৃপক্ষ পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পশ্চিম বান্দুংয়ের পাসির লাঙ্গু গ্রামে শনিবার ভোরে এই বিপর্যয় ঘটে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের নড়বড়ে মাটি ধসে পড়ে, যা এই মারাত্মক পরিস্থিতির কারণ হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পশ্চিম জাভাসহ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাত আরও এক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।
উদ্ধার তৎপরতায় আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস টিভার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি এলাকার মাটি এত নরম ও অস্থিতিশীল যে উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারেননি।
দ্বিতীয় দিনের মতো নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তবে কর্দমাক্ত মাটির কারণে উদ্ধারকারীরা সমস্যায় পড়ছেন। ধসে পড়া মাটি এবং জঙ্গলের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে অনেককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই পাহাড়ি এলাকায় এর আগে এত বড় ভূমিধস তারা দেখেননি। ৩৬ বছর বয়সী দেদি কুর্নিয়াওয়ান বলেন, পূর্বে মাঝেমধ্যে নদীতে সামান্য বন্যা হলেও এবার পাহাড়ের জঙ্গল থেকে নেমে আসা মাটি পুরো জনপদকে তছনছ করে দিয়েছে।
জাকার্তা ও পশ্চিম জাভার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে সরে যাচ্ছেন। এর আগে দুই মাসে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসে ১,২০০ জনের মৃত্যু ঘটেছিল, যার ক্ষত কাটতে না কাটতেই এই নতুন দুর্যোগ দেশটিকে মানবিক সংকটে ফেলেছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ ৮০ জনের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা না কমলে উদ্ধারকাজ পুরোপুরি সফল হবে কঠিন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং জরুরি ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে। সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং বাসিন্দাদের পাহাড়ের পাদদেশ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
-আফরিনা সুলতানা/










