র‍্যাবের গুম-নির্যাতন মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ব্যারিস্টার আরমান

দীর্ঘ আট বছর গুমের শিকার থাকার পর মুক্তি পাওয়া ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে তাঁর ওপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের দায়ে শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আজ বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার প্রেক্ষাপট ও গুমের ভয়াবহতা নিয়ে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপরই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন ব্যারিস্টার আরমান। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন টিমের পাশাপাশি আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
জবানবন্দিতে ব্যারিস্টার আরমান ২০১৬ সালের সেই ভয়াবহ রাতের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট মধ্যরাতে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে র‍্যাব-১-এর সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ বছর তাঁকে একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে (যাকে আয়নাঘর হিসেবে অভিহিত করা হয়) বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাঁর জবানবন্দিতে র‍্যাবের টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিবরণ শুনে আদালতের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এই মামলায় মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার এবং কর্নেল মশিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৭ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
গত ২৩ ডিসেম্বর এই ১৭ আসামির বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক বিরোধীদের গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারের একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো।
লামিয়া আক্তার