বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর মন্তব্য করেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের সঠিক গভর্ন্যান্সের অভাবে এই খাত ধ্বংসের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্র ও অনিয়মের কারণে বিগত সময়ে ২০–২৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশে ব্যাংকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি; বাস্তবতা বিবেচনায় মাত্র ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট।
তিনি বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য দেন। গভর্নর আরও বলেন, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম ও সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ হয়ত পাচার হয়ে গেছে। সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুটি রাখার এবং বাকিগুলো মার্জ করার পরিকল্পনা করছে।
গভর্নর খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে জানান, আগামী মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামানোর বিষয়ে আশাবাদী। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক রেজ্যুলিউশন ফান্ড গঠনের কাজ করছে; এতে ৩০–৪০ হাজার কোটি টাকা জমা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ফান্ডে শুধু ব্যাংক নয়, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, যিনি ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থার উপর মন্তব্য করেন এবং ইতিবাচক উন্নয়নের আশাবাদ প্রকাশ করেন। অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফ মোশারফ হোসেন বলেন, ঋণ খেলাপির কারণে ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া আয় বৈষম্য কমাতে নীতিমালা থাকলেও ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতকে আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরীফ ওসমান হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, এবং অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
-আফরিনা সুলতানা/










