বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ঢাকা ও কাবুলের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চলাচল এবং বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে বিনিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এক সপ্তাহের এই সফরকালে নূর আহমাদ নূর বাংলাদেশ খেলাফতে মসলিসের আমির মামুনুল হকসহ ইসলামপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আর এসব বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার বেশকিছু মাদ্রাসাও পরিদর্শন করতে দেখা গেছে আফগান এই কর্মকর্তাকে।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামপন্থি সাতজন নেতা বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও ছিলেন। সফর নিয়ে তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তালেবান সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া তালেবান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানিয়েছিলেন মামুনুল হক। ওই ঘটনার তিন মাসের মাথায় তালেবান সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকা সফর করলেন।
গত রোববার থেকে বাংলাদেশ সফররত আহমাদুল্লাহ জাহিদ এরই মধ্যে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি গতকাল সোমবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে একটি সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। খসড়া সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধ আমদানির বিষয়ে জানতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস পরিদর্শনে যাবেন।
আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ গতকাল বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর সচিবালয়ের দপ্তরে দেখা করেন। এ নিয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, আফগান উপমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সৌজন্য আলোচনা হয়েছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন। শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়টিও তিনি তুলেছেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধ আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা আর বাণিজ্যচুক্তির মতো বিষয়গুলো একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করতে হয়। এ বিষয়গুলো তাঁর কাছে উল্লেখ করেছেন।
আফগান উপমন্ত্রীর সফর এবং তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব জানান, খুব স্বল্প সময়ের অনুরোধে সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সফরটি সরকারি কি না, সেটি তিনি স্পষ্ট করেননি।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইপিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আমন্ত্রণে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকা সফর করছেন আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর দেশটি থেকে কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এটাই প্রথম ঢাকা সফর।
জানা গেছে, আফগান উপমন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাড়াতে যত দ্রুত সম্ভব পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, কাবুল থেকে ঢাকায় ফলমূল পরিবহন করা হবে। ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশের ওষুধ পাঠানো হবে কাবুলে। তিনি যুদ্ধে পর্যুদস্ত আফগানিস্তানে বিনিয়োগেরও অনুরোধ জানান।
-মামুন










