২০২৬ সালে যত মহাজাগতিক আয়োজন

ছবি: সংগৃহীত

আকাশ পর্যবেক্ষণপ্রেমীদের জন্য ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। বছরজুড়ে উল্কাবৃষ্টি, গ্রহের বিরল সমাবেশ, চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ এবং সুপারমুন এমন বহু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ববাসী।

এ বছরই নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অবজারভেটরির ২০ বছর পূর্তি হচ্ছে। ১৯৫৮ সালে রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই স্থাপনাটি পরবর্তীতে সূর্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং ২০০৬ সাল থেকে আধুনিক চাঁদ ও উল্কা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি চাঁদের ওপর উল্কাপিণ্ডের আঘাত শনাক্ত, গ্রহণ পর্যবেক্ষণ, ধূমকেতু অনুসরণ এবং মহাকাশীয় ধূলিকণার উৎপত্তি বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নাসা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে ২৮ ফেব্রুয়ারির গ্রহসমাবেশ। ওই দিন সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যার আকাশে একসঙ্গে দেখা যাবে ছয়টি গ্রহ বুধ, শুক্র, নেপচুন, শনি, ইউরেনাস ও বৃহস্পতি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চারটি গ্রহ খালি চোখেই দেখা সম্ভব হবে, তবে ইউরেনাস ও নেপচুন দেখতে টেলিস্কোপ বা দূরবীন প্রয়োজন হবে।

মার্চ মাসের শুরুতেই ঘটবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ৩ মার্চ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যা ‘ব্লাড মুন’ নামেও পরিচিত। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করলে পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে যায় চাঁদ তখনই ঘটে এই গ্রহণ।

৩১ মে দেখা যাবে বিরল ‘ব্লু মুন’। একই মাসে দ্বিতীয় পূর্ণিমা হলে তাকে ব্লু মুন বলা হয়। এতে চাঁদের রঙ নীল হবে না, তবে ২০২৬ সালে মোট ১৩টি পূর্ণিমা দেখা যাবে, যা ঘটনাটিকে বিশেষ করে তুলেছে।

৮ ও ৯ জুন আকাশে কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে শুক্র ও বৃহস্পতি। দুটি উজ্জ্বল গ্রহ এতটাই কাছে থাকবে যে খালি চোখেই সহজে দেখা যাবে, কোনো টেলিস্কোপ ছাড়াই।

উল্কাবৃষ্টিপ্রেমীদের জন্য আগস্ট মাসের ১২ ও ১৩ তারিখে পারসিডস উল্কাবৃষ্টি হবে বছরের অন্যতম আকর্ষণ। নতুন চাঁদের কারণে আকাশ থাকবে তুলনামূলক অন্ধকার, ফলে উল্কা দেখার সুযোগ হবে ভালো। ডিসেম্বরের ১৩ ও ১৪ তারিখে দেখা যাবে আরেক জনপ্রিয় উল্কাবৃষ্টি জেমিনিডস, যা উজ্জ্বল ও দ্রুতগতির উল্কার জন্য পরিচিত।

বছরের শেষদিকে, ২৪ ডিসেম্বর বড়দিনের আগের রাতে দেখা যাবে একটি সুপারমুন। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় পূর্ণ চাঁদটি স্বাভাবিকের তুলনায় বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালে সূর্যগ্রহণ, বিভিন্ন গ্রহের অপোজিশন, বিষুব ও অয়নান্তসহ আরও বহু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা আকাশ দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ২০২৬ সাল হবে একেবারে ভরপুর ও রোমাঞ্চকর একটি বছর।

সূত্র: নাসা

সাবরিনা রিমি/