চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে আন্দোলন দমন প্রসঙ্গে তাদের এই ফোনালাপের অংশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শামীম ওসমান ও ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথনের অংশ পড়ে শোনানো হয়।
ফোনালাপে শামীম ওসমানকে বলতে শোনা যায়, তিনি নারায়ণগঞ্জে অস্ত্র ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, এরপর সিদ্ধিরগঞ্জে গেছেন এবং পরে চিটাগং রোড খালি করার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অস্ত্র হাতে তার ছবি দেখলে ‘নেত্রী’ অর্থাৎ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন রাগ না করেন, সে বিষয়েও ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানোর অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আজ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে একটি ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ২১ জুলাই ও ৫ আগস্ট—এই তিন দিনে শিশু রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় গুলি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে আহত করা হয়।
এই মামলায় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল দাখিল করা ফরমাল চার্জ ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন।
প্রসিকিউটর জানান, আগামী ২৬ জানুয়ারি আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দিয়ে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন আরও জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শামীম ওসমান নিয়মিতভাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখতেন। এসব কল রেকর্ড ও সিডিআর, পাশাপাশি ফোনালাপের ফরেনসিক টেস্ট রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব প্রমাণের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে শামীম ওসমান সরাসরি অস্ত্র ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন এবং তা দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের অবগতিতেই হয়েছে।
-মামুন