উপহার হিসেবে রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার মে. টন সার পেল বাংলাদেশ

রাশিয়া বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতার নিদর্শন হিসেবে দেশটি থেকে বাংলাদেশ বিনামূল্যে ৩০ হাজার মেট্রিকটন সার উপহার পেয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাশিয়া ফেডারেশন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পটাশ সার হস্তান্তর করেছে।

এ উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়া ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার জি খোজিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান।

রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উরালচেম বাংলাদেশকে এই ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি পটাশ সার উপহার হিসেবে দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও সার সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব, অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট কৃষি খাতে অনুভূত হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি এই উদ্যোগকে গঠনমূলক বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর কাছে ইউরিয়া ব্যতীত অন্যান্য সারের মজুদ রয়েছে মোট ১০.৩৫ লাখ মেট্রিক টন, যা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মজুদ।’

তাছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বিগত তিন বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ধান উৎপাদন বেড়েছে ৬ শতাংশ, আলু উৎপাদন ১৪ শতাংশ, পেঁয়াজ উৎপাদন ২২ শতাংশ, সবজি উৎপাদন ৩.৭০ শতাংশ এবং সরিষা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইমরান