নারায়ণগঞ্জে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় সংঘটিত ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা এলাকায় চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।
এ ছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য তারা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে বৈঠক করেন এবং রাইফেলস ক্লাব থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করেন। ওইসব হামলার ফলেই একাধিক স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা ঘটনার সময় ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং সরাসরি অস্ত্র ব্যবহারেও অংশ নেন।
এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়, যা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো আমলে নেন। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—রাজনৈতিক প্রভাব, পদ বা পরিচয় যাই থাকুক না কেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও হত্যাকাণ্ডের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জের জনগণ এই পদক্ষেপকে ন্যায়বিচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
নজরুল ইসলাম বাদল, নারায়ণগঞ্জ










