ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ দমন-পীড়ন ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে বিশাল বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসীরা তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী অধ্যুষিত শহর হিসেবে পরিচিত লস অ্যাঞ্জেলেসের সিটি হলের সামনে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। মিছিলে অংশ নেওয়া ৬৫ বছর বয়সী আইনজীবী আলি পারভানেহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজ দেশের নিরস্ত্র জনগণের ওপর এমন নির্বিচার হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। বিশ্ব বিবেক এভাবে চুপ থাকতে পারে না।” বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ক্ষমতাচ্যুতির দাবি জানান এবং নির্বাসিত রাজপরিবারের সদস্য রেজা পাহলভির সমর্থনে স্লোগান দেন।
একই দিনে নিউইয়র্কেও কয়েক শ মানুষ এক সংহতি সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ থেকে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইরানের প্রভাবশালী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের’ (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের দাবি, কেবল মৌখিক সমর্থন নয়, বরং ইরানে সহিংসতা বন্ধে ওয়াশিংটনকে আরও জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। শুরুতে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও, পরবর্তীতে তেহরানের কিছু আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারীরা একে ‘দোদুল্যমান’ অবস্থান হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটনের নমনীয়তা তেহরানকে আরও কঠোর হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরোপুরি সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করতে পেরেছে। তবে গত ৮ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশের মাটিতে এই বিশাল বিক্ষোভ ইরানি প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
-এম. এইচ. মামুন










