ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ দিতে ভারত ও পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নয়াদিল্লির জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারতকে এই বৈশ্বিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা চলায় নয়াদিল্লি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ইসলামাবাদের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তান যুক্ত থাকবে। তবে এই অংশগ্রহণের পরিধি কতটা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই ‘শান্তি পর্ষদে’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস পর্ষদের নির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে। এতে রয়েছেন— মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা আরও থাকবেন, জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
ট্রাম্প এই বোর্ডে যোগ দিতে তুরস্ক, মিসর, কানাডা, আর্জেন্টিনা ও জার্মানি সহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে এই পর্ষদের সদস্য পদ নিয়ে একটি বিতর্কিত শর্তও আলোচনায় এসেছে। একটি খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি এই বোর্ডে তিন বছরের বেশি প্রভাব ধরে রাখতে চায়, তবে তাদের অন্তত ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার নগদ অনুদান দিতে হবে, যা গাজার পুনর্গঠন কাজে ব্যয় হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা সংকট নিরসনে ট্রাম্পের এই ‘পিস থ্রু স্ট্রেংথ’ বা শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার নীতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
-এম. এইচ. মামুন










