ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় টিকটক নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি চালু করতে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং কনটেন্ট সীমাবদ্ধ করার আন্তর্জাতিক চাপে প্রতিষ্ঠানটি এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
টিকটক জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরো ইউরোপজুড়ে নতুন বয়স যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, পোস্ট করা ভিডিও এবং প্ল্যাটফর্মে আচরণ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমান করবে কোন অ্যাকাউন্টটি ১৩ বছরের কম বয়সীর।
প্রক্রিয়াটি সন্দেহজনক কোনো অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করলে তা সরাসরি মুছে ফেলা হবে না। প্রথমে বিশেষজ্ঞ মডারেটর বিষয়টি যাচাই করবেন এবং প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলা হবে। ভুলভাবে কোনো অ্যাকাউন্ট ডিলিট হলে ব্যবহারকারী আপিল করতে পারবে। আপিল প্রক্রিয়ায় বয়স প্রমাণের জন্য মুখাবয়বভিত্তিক প্রযুক্তি, ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদন বা সরকারি পরিচয়পত্র দেখানোর সুযোগ থাকবে।
টিকটক জানিয়েছে, নতুন সিস্টেম ডেটা সুরক্ষা ও গোপনীয়তা আইন মেনে পরিচালিত হবে এবং তথ্য কেবল অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার জন্যই ব্যবহার করা হবে।
কোম্পানিটি আরও কিছু নিরাপত্তা পদক্ষেপও চালু করছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সরাসরি বার্তা পাঠানোর সীমাবদ্ধতা, ১৮ বছরের কম ব্যবহারকারীর দৈনিক ৬০ মিনিট স্ক্রিন-টাইম সীমা, এবং রাতের সময়ে কোনো নোটিফিকেশন না পাঠানোর ব্যবস্থা। মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামও একই ধরনের বয়স যাচাই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ সীমিত করার চাপ বেড়েই চলেছে। অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পর প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও শিশুদের অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ডেনমার্কও এ বিষয়ে বয়স সীমা নির্ধারণের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: টেকজুম
সাবরিনা রিমি/










