গাজাবিষয়ক শান্তি পর্ষদে পাকিস্তানকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে পাকিস্তানকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি জানান, গাজা বিষয়ক শান্তি পর্ষদে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রস্তাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিলিস্তিন সংকটের একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে পাকিস্তান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে দেশটি সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের টানা প্রায় দুই বছরের সামরিক অভিযানে বিপর্যস্ত গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ঘোষিত ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে নিজেকে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন নিয়ে বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাব সামনে এনেছেন। এ ছাড়া তুরস্ক, মিসর, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, মরক্কো, আর্জেন্টিনা ও ইন্দোনেশিয়াসহ প্রায় ৬০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে বোর্ডটির সনদে গাজার নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকায় এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। খবর রয়টার্সের

এর আগে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বোর্ডের নির্বাহী প্যানেলের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শীর্ষ আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ।

রয়টার্স জানায়, বোর্ডে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও রয়েছেন। তবে গাজা ইস্যুতে তুরস্কের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ইসরায়েল আপত্তি জানিয়ে আসছে। নির্বাহী প্যানেলের অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার বিশেষ সমন্বয়কারী সিগরিড কাগ, ইসরায়েলি-সাইপ্রাসি ধনকুবের ইয়াকির গাবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মন্ত্রী।

এদিকে গাজা শাসন ব্যবস্থার জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি প্রকৌশলীদের একটি কমিটি শুক্রবার কায়রোতে তাদের প্রথম বৈঠক করেছে। এতে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচক জ্যারেড কুশনার, যিনি কয়েক মাস ধরে স্টিভ উইটকফের সঙ্গে এ উদ্যোগে কাজ করে আসছেন।

কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উপমন্ত্রী আলি শাআথ। কমিটির প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ ভূমধ্যসাগরে সরিয়ে নেওয়া এবং তিন বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

-সাবরিনা রিমি