ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আবারও রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার দেশটির নোভি সাদ শহরে এক বিশাল সমাবেশে অংশ নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। বিক্ষোভকারীদের মতে, এই দুর্ঘটনাটি দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিরই চরম বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনার জেরে ইতোমধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ এখনো ক্ষমতায় বহাল থাকায় বিক্ষোভ থামছে না।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা সার্বিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পেশ করেছেন। ভুচিচ-পরবর্তী সরকারের জন্য তাদের প্রস্তাবিত প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে:
দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের আজীবনের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা, সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
আন্দোলনকারীরা জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের দাবির পক্ষে ইতোমধ্যে তারা প্রায় চার লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ সব দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত অভ্যুত্থানচেষ্টাকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার দল এসএনএস (SNS)-এর নেতারা দাবি করেছেন, রেলস্টেশনের ছাদ ধসের ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলাও হতে পারে।
রেলস্টেশন দুর্ঘটনার দায়ে সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিচসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও, গত মাসে প্রমাণের অভাবে হাইকোর্ট ভেসিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিক্ষোভকারীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তবে ওই প্রকল্পে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে একটি পৃথক তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের পরবর্তী বড় কর্মসূচি আগামী ২৭ জানুয়ারি রাজধানী বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত হবে।
-এম. এইচ. মামুন










