ই–মেইল ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে জিমেইলে একাধিক জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধা চালু করতে শুরু করেছে গুগল। এসব নতুন ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কম সময়ে প্রয়োজনীয় ই–মেইল খুঁজে পাওয়া, গুরুত্বপূর্ণ কাজ শনাক্ত করা এবং দ্রুত ই–মেইল লেখার সুবিধা পাবেন। তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গুগলের নতুন এআই সুবিধাগুলোর মূলভিত্তি হলো তাদের এআই সহকারী ‘জেমিনি’। এই সহকারী কার্যকরভাবে কাজ করতে ব্যবহারকারীদের ইনবক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করবে। আর এখান থেকেই গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেমিনি ই–মেইলের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করলেও কোনো মানব কর্মী ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা পড়েন না। একই সঙ্গে এসব তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয় না। জিমেইল পণ্যের দায়িত্বে থাকা গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেক বার্নস বলেন, ব্যবহারকারীদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যেখানে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই।
তবে গুগল এটিও স্বীকার করেছে, আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলে নির্দিষ্ট তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সরবরাহ করতে হতে পারে। প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের নীতিমালা নতুন নয় বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
ডিজিটাল গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ থোরিন ক্লসোস্কি মনে করেন, ই–মেইলকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাঁর মতে, ইনবক্সে যত বেশি তথ্য জমা হবে, আইনগত প্রক্রিয়ায় সেগুলো প্রকাশের ঝুঁকিও তত বাড়বে।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এআই ফিচারগুলোর অধিকাংশই বিনা খরচে ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে ‘এআই ইনবক্স’ ছাড়া অন্যান্য সুবিধা ডিফল্টভাবে চালু রয়েছে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে অ্যাকাউন্ট সেটিংসে গিয়ে ‘স্মার্ট ফিচারস’ অপশন বন্ধ করে এআই সুবিধাগুলো ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সাবরিনা রিমি/










