রিং নেবুলার কেন্দ্রে অদ্ভুত লোহার কাঠামো

ছবি: নাসা, ইএসএ

পৃথিবীর তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থিত একটি নীহারিকার কেন্দ্রে অস্বাভাবিক লোহার গঠন শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রায় ২ হাজার ২৮৩ আলোকবর্ষ দূরে থাকা রিং নেবুলার একেবারে মাঝখানে পাওয়া এই আয়নিত লোহার কাঠামো কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য, মহাকাশে আগে কখনো এমন কাঠামোর নজির পাওয়া যায়নি। সে কারণে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো পাথুরে গ্রহের ধ্বংসাবশেষ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট নক্ষত্রের তীব্র উত্তাপে ওই গ্রহটি ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হয়ে লোহার প্লাজমায় রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন, সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিঃশেষ হয়ে যায়। তখন নক্ষত্রটির কেন্দ্র সংকুচিত হলেও বাইরের স্তর ফুলে উঠে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কেন্দ্রে থেকে যায় ছোট আকারের শ্বেত বামন নক্ষত্র এবং চারপাশে তৈরি হয় প্ল্যানেটারি নেবুলা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর আমাদের সূর্যও একই পরিণতির মুখোমুখি হবে। তখন সূর্য একটি বিশাল লোহিত দানবে পরিণত হয়ে তার চারপাশের গ্রহগুলোকে গ্রাস করতে পারে। গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পৃথিবীরও কোনো অবশিষ্ট কাঠামো এ ধরনের নেবুলার ভেতরে ধরা পড়তে পারে।

রিং নেবুলায় পাওয়া লোহার কাঠামোটি কীভাবে তৈরি হয়েছে এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা দুটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নক্ষত্রটি সংকোচনের সময় কোনো জটিল ভৌত প্রক্রিয়ায় এই গঠন তৈরি হতে পারে। তবে আরেকটি, এবং তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচিত ধারণা হলো এটি কোনো পাথুরে গ্রহ ধ্বংস হয়ে সৃষ্ট লোহার প্লাজমা আর্ক।

গবেষক ওয়েসনের তথ্য অনুযায়ী, কাঠামোটিতে শনাক্ত লোহার পরিমাণ বুধ বা মঙ্গলের চেয়ে কিছুটা বেশি। আবার পৃথিবী বা শুক্রের মতো গ্রহ পুরোপুরি বাষ্পীভূত হলে যে পরিমাণ লোহা থাকার কথা, এই কাঠামোর লোহার পরিমাণ তার কাছাকাছি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, সূর্য যখন লোহিত দানবে রূপ নেবে, তখন এর আকার বর্তমানের তুলনায় ১০০ থেকে ১ হাজার গুণ পর্যন্ত বড় হতে পারে। সে সময় পৃথিবী হয় চরম তাপে গলে যাবে, নয়তো সূর্যের প্রবল মহাকর্ষে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। এই কারণেই লোহিত দানব নক্ষত্রের আশপাশে পৃথিবীর মতো বড় গ্রহের অস্তিত্ব খুবই বিরল বলে মনে করেন গবেষকেরা।

সূত্র: ডেইলি মেইল

সাবরিনা রিমি/