আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও সেনেগাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শিরোপার মঞ্চে নামার আগে স্বাগতিক মরক্কোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ তুলেছে সেনেগাল।
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ) গতকাল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, মরক্কোর রাবাতে দলের আগমনের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। পাশাপাশি আবাসন, অনুশীলন সুবিধা এবং সমর্থকদের জন্য টিকিট বরাদ্দ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।
বিবৃতিতে সেনেগাল আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ও স্থানীয় আয়োজক কমিটির কাছে অনুরোধ জানায়, যেন দুই দলের জন্য সমতা, ন্যায্য আচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারা বলেছে, এসব বিষয় আফ্রিকান ফুটবলের এই বড় উৎসবের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেনেগাল দল শুক্রবার ট্যাঙ্গিয়ার থেকে ট্রেনে করে রাবাতে পৌঁছায়। তবে ফেডারেশনের অভিযোগ, সেখানে ‘উপযুক্ত নিরাপত্তার স্পষ্ট অভাব’ ছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও স্টাফদের ঘিরে বিপুল ভিড় জমে যায়। ছবি তোলার জন্য সমর্থকদের একাংশ হুমড়ি খেয়ে পড়লে সেনেগাল দল ভিড়ের মধ্যে আটকা পড়ে।
এ নিয়ে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও বলেন, “যা ঘটেছে তা অস্বাভাবিক। সেনেগালের মতো একটি দলকে এভাবে ভিড়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া উচিত নয়। খেলোয়াড়রা বিপদের মধ্যে ছিল। খারাপ উদ্দেশ্যের মানুষদের কারণে যে কোনো কিছু ঘটে যেতে পারত।”
নিরাপত্তার পাশাপাশি আবাসন ও অনুশীলন সুবিধা নিয়েও অভিযোগ তোলে সেনেগাল। ফেডারেশন জানায়, রাবাতে পর্যাপ্ত হোটেল সুবিধা পেতে তাদের আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ করতে হয়েছে। প্রথমে যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তার অবস্থা তারা বিস্তারিত জানায়নি। তবে তাদের মতে, বিষয়টি ‘খেলাধুলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে’।
সমর্থকদের জন্য টিকিট বরাদ্দ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সেনেগাল। তাদের সমর্থকদের জন্য মাত্র ২ হাজার ৮৫০টি টিকিট কেনা সম্ভব হয়েছে, যা সিএএফ অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমা। এই বরাদ্দকে তারা ‘চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত’ উল্লেখ করে বলেছে, এতে সেনেগাল সমর্থকদের ক্ষতি হচ্ছে।
আফকন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে রাবাতের প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে, যার ধারণক্ষমতা ৬৯ হাজার ৫০০ দর্শক। ফাইনালের আগে কোচ পাপে থিয়াও বলেন, “এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের আয়োজন চমৎকার ছিল। সারা বিশ্বে এটি প্রশংসিত হচ্ছে। মরক্কোকে অসাধারণ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ। তারা শান্তিপূর্ণতার মানদণ্ড উন্নত করেছে। আশা করি এটি অব্যাহত থাকবে। তবে গতকালের ঘটনা আর হওয়া উচিত নয়। এটি আফ্রিকার ভাবমূর্তির বিষয়। আমি শুধু সেনেগালের কোচ হিসেবে নয়, একজন আফ্রিকান হিসেবেও বলছি। আমরা এখন এসব পেছনে ফেলে ফাইনালে মনোযোগ দিতে চাই। লক্ষ্য একটাই—ট্রফি ঘরে তোলা।”
সেনেগাল ও মরক্কো—দুই দলই দ্বিতীয়বার আফকন শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। সেনেগাল সর্বশেষ ২০২২ সালে এই ট্রফি জেতে। অন্যদিকে মরক্কো ১৯৭৬ সালের পর আর আফ্রিকা কাপ জয়ের স্বাদ পায়নি।
-এমইউএম










