সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার নেপথ্যে থাকা আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ নেতাকে বিমান হামলায় হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এই অভিযান চালানো হয় বলে শনিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত নেতার নাম বিলাল হাসান আল-জসিম। তিনি আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট একজন অভিজ্ঞ জঙ্গি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ার পালমিরাতে মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর ওপর যে ভয়াবহ হামলা হয়েছিল, সেই হামলার মূল হামলাকারীর সঙ্গে আল-জসিমের ‘সরাসরি যোগাযোগ’ ছিল।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের ওই হামলায় দুজন মার্কিন সেনা (সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান টোরেস-টোভার ও সার্জেন্ট উইলিয়াম নাথানিয়েল হাওয়ার্ড) এবং একজন মার্কিন বেসামরিক অনুবাদক (আইয়াদ মনসুর সাকাত) নিহত হয়েছিলেন।
অভিযান সফল হওয়ার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, “তিন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত এক সন্ত্রাসীর মৃত্যু প্রমাণ করে যে, আমাদের বাহিনীর ওপর হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে আমরা কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে পালানোর মতো কোনো নিরাপদ স্থান পৃথিবীতে নেই।”
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমরা কখনো ভুলবো না এবং আমরা কখনো থামবো না।”
গত ১৩ ডিসেম্বরের ওই হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকম জানিয়েছে, এই অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় এ পর্যন্ত আইএসের শতাধিক অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে দুই শতাধিক সুনির্দিষ্ট নিশানায় (precision munitions) হামলা চালানো হয়েছে। গত এক বছরে সিরিয়ায় প্রায় ৩০০ আইএস সদস্যকে আটক এবং ২০ জনের বেশি নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে আল-কায়েদা এবং আইএসের মধ্যে বৈরিতা থাকলেও, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে তাদের মধ্যে যোগসাজশের এই তথ্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আসাদের পতনের পর সিরিয়ার অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, যা রুখতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
-এম. এইচ. মামুন










