ইরানের দীর্ঘদিনের ইসলামি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত রাজবংশকে ফিরিয়ে আনার যে স্বপ্ন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি দেখছিলেন, তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ সহিংসতার পর সাধারণ মানুষকে আবারও রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে পাহলভির এই সাম্প্রতিক ডাকে তেহরানসহ দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত রেজা পাহলভি শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত টানা তিন দিন বিক্ষোভ ও দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। তবে রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে শনিবার সন্ধ্যার পর কোনো গণজমায়েত বা বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। অনেক জায়গায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ভেতরে পাহলভির প্রভাব যতটুকু ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি ইরানে বিক্ষোভ যখন চরম আকার ধারণ করে, তখন অনেক জায়গায় ‘পাহলভি ফিরে আসবে’ স্লোগান শোনা গিয়েছিল। সেই উত্তাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রেজা পাহলভি নিজেকে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং ইরানে ফেরার ঘোষণাও দেন। তবে সাধারণ ইরানিদের একটি বড় অংশ এখনও রাজতন্ত্রের ফিরে আসাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না।
এর পাশাপাশি ইরান সরকারের নজিরবিহীন দমন-পীড়ন বিক্ষোভকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং প্রতিটি মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সশস্ত্র উপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ নতুন করে ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
রেজা পাহলভি সরকার পতনের জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক মহলের এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে তিনি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন বলে দাবি করলেও, ইরানের ভেতরে সেটি হিতে বিপরীত হয়েছে। খামেনি সরকার এই আন্দোলনকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রচার করে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের জাতীয়তাবাদী সংশয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত দুই সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তেহরানের প্রসিকিউটর আলি সালেহি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
সব মিলিয়ে রেজা পাহলভির সর্বশেষ ডাকে সাড়া না দেওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে যে, খামেনি সরকার অন্তত সাময়িকভাবে হলেও রাজপথের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। পাহলভি বিদেশে সমর্থন পেলেও দেশের মাটির আন্দোলনে তাঁর প্রভাব নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।










