এবারও কলকাতার বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ

আসন্ন ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় এবারও অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সরকারি অনুমোদন না পাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। ফলে বাংলাদেশের কোনো প্রকাশনা সংস্থা এবারের বইমেলায় স্টল বসাতে পারছে না।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আনন্দবাজার জানিয়েছে, গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি সবুজ সংকেত না পাওয়ায় বাংলাদেশকে এবার আমন্ত্রণ জানানো যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে তাদের অংশগ্রহণের আশা রাখছি। বাংলাদেশের বইয়ের জন্য বহু পাঠক অপেক্ষা করেন, যা এবার পূরণ হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা জানান, যদিও ১৯৯৬ সাল থেকে প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করে আসছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন ‘সেরা প্যাভিলিয়ন’ হিসেবে সম্মাননা পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং কৌশলগত বিবেচনায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনুপস্থিত থাকছে দেশটি।

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে। এবছর বইমেলায় এক হাজারের বেশি স্টল থাকবে এবং ২০টিরও বেশি দেশ অংশ নেবে। ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল।

মেলার প্রাঙ্গণে মোট নয়টি তোরণ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি আর্জেন্টিনার স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হবে। প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে দুটি তোরণ থাকছে। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার নামে একটি তোরণ উৎসর্গ করা হবে। বইমেলায় যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোর বিশেষ বুথ থাকছে, যেখানে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাবে। মেলার দিনগুলোতে রাত ১০টা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু থাকবে এবং ছুটির দিনেও পরিষেবা মিলবে।

এ ছাড়া অ্যাপ ও কিউআর কোডের মাধ্যমে মেলার ডিজিটাল ম্যাপ, স্টল খোঁজার সুবিধা এবং ভার্চুয়ালি বইমেলা দেখার সুযোগ থাকছে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র :আনন্দ বাজার/ কলকাতা টিভি

-মামুন