অ্যালকালাইন ডায়েট আবার নতুন করে আলোচনায় আসছে। প্রায় এক যুগ আহগ ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের একটি টুইট এই ডায়েটকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি ‘অনেস্টলি হেলদি অ্যালকালাইন প্রোগ্রাম’ বইটির ছবি সামাজিক যোগাযোগে শেয়ার করার পরই, তারকানির্ভর এই খাদ্যাভ্যাস নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আগ্রহ। এক দশকেরও বেশি সময় পর অনেকেই জানতে চাইছেন-
অ্যালকালাইন ডায়েটের মূল ধারণা হলো—কিছু খাবার শরীরে গিয়ে অ্যালকালাইন (ক্ষারীয়) প্রভাব ফেলে, আর কিছু খাবার তৈরি করে অ্যাসিড। এই ডায়েটের সমর্থকদের মতে, শরীরের পি এইচ ভারসাম্য অ্যালকালাইন দিকে নিয়ে গেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ওজন দ্রুত কমে।
পি এইচ ভারসাম্য মানে হল- অম্ল ও ক্ষারের সমতাবস্থা। ফল, সবজি, বাদাম, বীজ ও ডালকে ধরা হয় অ্যালকালাইন খাবার। অন্যদিকে মাংস, দুধ, ডিম, শস্য, চিনি, কফি ও অ্যালকোহলকে বলা হয় অ্যাসিডিক।মাংস, দুধ, ডিম, শস্য, চিনি, কফি ও অ্যালকোহলকে বলা হয় অ্যাসিডিক।
খাবার কি শরীরের পি এইচ বদলাতে পারে?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই ধারণার শক্ত ভিত্তি নেই। আকাশ হেলথকেয়ারের ডায়েটেটিক্স বিভাগের প্রধান গিন্নি কালরা বলেন, খাবারের মাধ্যমে শরীরের পি এইচ বদলানো সম্ভব নয়। মানবদেহ নিজেই কিডনি ও ফুসফুসের মাধ্যমে পি এইচ খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। শুরুতে অ্যালকালাইন ডায়েটে যে ওজন কমে, তা মূলত প্রসেসড খাবার, চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়ার ফল।
কেন ওজন কমে : এই ডায়েটে গেলে মানুষ সাধারণত জাঙ্ক ফুড, মিষ্টি পানীয় ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার বন্ধ করে দেয়। ফলে ক্যালোরি গ্রহণ কমে এবং শরীরে জমে থাকা পানি ঝরে যায়। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. মনিকা শর্মার মতে, ওজন কমার পেছনে পি এইচ নয়, বরং কম ক্যালোরিই আসল কারণ।
দীর্ঘমেয়াদে কি নিরাপদ?
যদিও এই ডায়েটে ফল ও সবজি বেশি থাকে, তবু দুধ, শস্য ও কিছু প্রোটিন বাদ দেওয়ায় পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা মনে করেন, কড়াকড়ি ডায়েট দীর্ঘদিন মেনে চলা কঠিন। তাই দ্রুত ফলের আশায় ট্রেন্ডি ডায়েট নয়, বরং পরিমিত খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও ভালো ঘুম, এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই টেকসই ওজন কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
মাহমদু সালেহীন খান










