পত্রিকা অফিসে আগুন দেওয়া ব্যক্তিরা জুলাইয়ের চেতনা ধ্বংসে লিপ্ত: নূরুল কবির

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির বলেছেন, যারা সম্প্রতি দুটি পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে, তারা মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ টেনে নূরুল কবির বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে সাংবাদিকদের ভেতরে রেখে ভবনে আগুন দেওয়া এবং দমকল বাহিনীকে আসতে বাধা দেওয়া মধ্যযুগীয় বর্বরতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি কেবল একটি ভবনের ওপর আক্রমণ ছিল না, বরং সাংবাদিকদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার একটি নিকৃষ্ট চেষ্টা ছিল।” তিনি এই ঘটনাকে গভীর এক মানসিক আঘাত বা ‘ট্রমা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম কেবল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার জায়গা নয়, এটি গোটা সমাজের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের হাতিয়ার। গণমাধ্যম যদি সচল বা উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের অধিকার ব্যাহত হতে বাধ্য।” তিনি আরও বলেন যে, একটি বৈপ্লবিক পরিস্থিতির মধ্যেও কণ্ঠস্বর রোধ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

নূরুল কবির অভিযোগ করেন যে, দেড় বছর আগে যে স্বৈরতন্ত্রকে পরাজিত করা হয়েছিল, এখন সেই আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “যারা এই হামলায় লিপ্ত ছিল, তারা জুলাইকে ব্যবহার করে জুলাইয়ের মূল গণতান্ত্রিক চেতনাকেই ধ্বংস করতে চাইছে।”

ভবিষ্যতে অন্য কোনো গণমাধ্যম যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়, সেজন্য সাংবাদিকদের পাশাপাশি গোটা সমাজকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের লড়াই চলাকালীন গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের আঘাত সভ্যতার বিকাশে বড় বাধা।

-এম. এইচ. মামুন