ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর আজ থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে মাঠে নেমেছেন। তবে এবার প্রচারণার দৃশ্যপট আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় প্রার্থীরা মূলত ঘরোয়া বৈঠক, পথসভা, গণসংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করছেন। অনেক এলাকায় সকাল থেকেই প্রার্থীদের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যেতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও মাইক ব্যবহার করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণায় উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা স্থানীয় সমস্যা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে সামনে রেখে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি চোখে পড়ছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে আজ থেকেই মাঠ প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে। কোনো প্রার্থী বা সমর্থক বিধি ভাঙলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষণ:
আজকের প্রচারণা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে এবারের নির্বাচন দৃশ্যত শান্ত এবং নিয়ন্ত্রিত রাখতে কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পোস্টারবিহীন প্রচারণা একদিকে যেমন দৃশ্য দূষণ কমিয়েছে, অন্যদিকে প্রার্থীদের জন্য সরাসরি ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এতে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় ইস্যুর গুরুত্ব বাড়ছে।
একই সঙ্গে বড় দলগুলোর জন্য সংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রচারণার এই ধারা শেষ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ও ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোর মাঠের পরিস্থিতি এবং আচরণবিধি বাস্তবায়নের ওপর।