জহুরুল হক হলে ককটেল: নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা প্রভোস্টের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের একটি ওয়াশরুম থেকে তিনটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে হলের প্রধান ভবনের নিচতলার একটি ওয়াশরুমে এই বস্তুগুলো দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান: হলের সমাজসেবা সম্পাদক মো. জহির রায়হান রিপন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হলের মেইন বিল্ডিংয়ের প্রথম ওয়াশরুমেই সন্দেহভাজন তিনটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে শাহবাগ থানা পুলিশ এবং খবর দেওয়া হয় ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে। নিরাপত্তার খাতিরে ওই এলাকাটি তাৎক্ষণিক ঘিরে রাখা হয়। পরবর্তীতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এসে বস্তুগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যান।
তদন্ত ও পুলিশের বক্তব্য: প্রাথমিক পরীক্ষার পর শাহবাগ থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা আল আমিন জানান, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো ককটেল সদৃশ হলেও সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না। তিনি বলেন, “বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেছে যে এগুলো ককটেল ছিল না। সম্ভবত হলে একটি ভীতিকর পরিবেশ বা আতঙ্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যেই স্কচটেপ পেঁচিয়ে সেগুলোকে ককটেলের মতো করে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।” তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতিতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
হল প্রশাসনের পদক্ষেপ: জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফারুক শাহ জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বোম্ব ডিসপোজাল টিম সেগুলো নিয়ে গেছে। হলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে শনাক্ত করা যায় কে বা কারা এই অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
গভীর রাতে এমন ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলেও পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
লামিয়া আক্তার