ব্যাংক খাতে ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণে সীমা আরোপের উদ্যোগ ঘিরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর একটি খসড়া প্রস্তুত করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত আহ্বান করে। এ নিয়ে গত বুধবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এবিবি তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরে।
খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাব করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, পরিবারের সদস্য বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে একাধিক ব্যাংকে একসঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার রাখতে পারবে না। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কেউ যদি একটি ব্যাংক কোম্পানির মোট শেয়ারের ২ শতাংশ বা তার বেশি অংশের মালিক হন, তাহলে একই সময়ে অন্য কোনো ব্যাংকের শেয়ারের ২ শতাংশ বা তার বেশি ধারণ করতে পারবেন না। ব্যাংক খাতে সাম্প্রতিক অনিয়ম ও দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে কোনো একক গোষ্ঠীর অতিরিক্ত প্রভাব কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, এবিবির প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে সরাসরি প্রভাব থাকে না; সে ক্ষমতা মূলত পরিচালনা পর্ষদের হাতেই সীমাবদ্ধ। তাছাড়া একই পরিবারের একাধিক সদস্য পরিচালনা পর্ষদে থাকার সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব আগেই আসায়, শেয়ার মালিকানায় নতুন করে সীমা আরোপের প্রয়োজন নেই বলে তাদের মত।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা পাল্টা যুক্তিতে জানান, অতীতে কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী একাধিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। উদাহরণ হিসেবে তারা এস আলম গ্রুপের কথা উল্লেখ করেন, যারা একাধিক ব্যাংকে সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার ধরে রেখে নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করেছে। এর ফলে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয় এবং বহু আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছরের শেষ দিকে একীভূত হওয়া পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের আমানতকারীদের সুরক্ষায় সরকারকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করতে হয়েছে।
-আফরিনা সুলতানা/










