চার দফা দাবিতে আবারও অচল চট্টগ্রাম বন্দর

শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে ফের অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে। গত সপ্তাহে টানা ছয় দিন কর্মবিরতির পর রবিবার সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া বন্ধের স্পষ্ট ঘোষণাসহ চার দফা দাবিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এ ধর্মঘট ডাকে।

ধর্মঘটের প্রথম দিন সকাল ৮টা থেকে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্দর ইয়ার্ড থেকে খোলা পণ্য ও কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি। বন্দরের গেটগুলোতে ছিল না ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের চিরাচরিত ভিড়। জাহাজে পণ্য লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। আগের আন্দোলন কর্মসূচিতে বহির্নোঙর আওতামুক্ত রাখা হলেও এবার সেখানে ধর্মঘট ডাকা হয়। ফলে বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে পণ্য খালাস হয়নি। এতে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।

বন্দরের প্রবেশ গেটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ছিল। লাইটার জাহাজ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শ্রমিকরা কাজ না করায় বহির্নোঙরে পণ্য খালাস তেমন হয়নি। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, পণ্য খালাসের অপেক্ষায় প্রধান জেটিগুলোতে ১৪টি এবং বহির্নোঙরে ১০৯টি মাদার ভেসেল অবস্থান করছিল।

তবে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান দাবি করেন, বন্দরের কার্যক্রম সচল রয়েছে এবং আমদানিকারকরা চাইলে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নিতে পারেন। বন্দর ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বন্দরের আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বন্দর জিম্মি করে আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া পাহারার কারণে রবিবার আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। একাধিক ভিডিও বার্তায় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির জানান, ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনরত ৭-৮ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে।

সকালে বন্দর অডিটোরিয়ামে শ্রমিক-কর্মচারীদের একাংশের সঙ্গে বৈঠক করেন বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা কর্মক্ষেত্রে ফিরে গেছেন। গাড়ি চলছে, কেউ বাধা দিচ্ছে না। কেউ বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। কিছু বিপথগামী কর্মচারী বন্দরে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, এখনো কোনো চুক্তি হয়নি এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়নি।

-সাইমুন