বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবসাসফল অভিনেত্রী জোয়ি সালডানা

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জোয়ি সালডানার জীবন এখন এক স্বপ্নের মতো সময়ে ভরা। একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে, বক্স অফিসে রেকর্ড ভাঙা সাফল্য অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে তিনি নিজের জায়গা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সম্প্রতি তিনি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ মুক্তির পর ভ্যারাইটি জানিয়েছে, জোয়ি সালডানার সিনেমাগুলোর সম্মিলিত বৈশ্বিক আয় এখন ১৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবসাসফল অভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

জোয়ি সালডানা হলেন একমাত্র অভিনেত্রী, যিনি সর্বকালের তিনটি সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’, ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ এবং ২০২২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’—এই তিনটি ছবি শুধু বক্স অফিসেই রেকর্ড গড়েনি, বরং তার অভিনয়কে বিশ্বব্যাপী সাফল্যের পরিচায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এ ছাড়া তিনি প্রথম অভিনেত্রী যিনি চারটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যেগুলোর প্রতিটির বৈশ্বিক আয় ২০০ কোটি ডলারের বেশি। এই তালিকায় রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ও। এই একক অর্জনই দেখায়, জোয়ি শুধু অভিনয়ে নয়, বাণিজ্যিক দিক থেকেও কতটা প্রভাবশালী।

জোয়ি সালডানা মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ সিরিজে গ্যামোরা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনটি ছবিতেই তার উপস্থিতি দর্শকপ্রিয় হয়েছে। এছাড়া ‘স্টার ট্রেক’ ট্রিলজিতে নিয়োটা উহুরা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির ভক্তদের হৃদয় জয় করেছেন। স্টার ট্রেক সিরিজের মোট আয় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। এভাবে তিনটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের সিনেমা জগতেও তিনি নিজের ছাপ রেখেছেন।

২০২৪ সাল পর্যন্ত জোয়ি সালডানার সিনেমাগুলোর মোট আয় ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তখন তিনি স্কারলেট জোহানসন এবং স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের পর তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ একাই আয় করেছে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। এই একক সাফল্য তাকে শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।

জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তে জোয়ি সালডানা সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় জানান, “আজ আমি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হতে পেরেছি—এই অসাধারণ যাত্রার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। এটি সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র সেই সব ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং সহকর্মীর কারণে, যাদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।”

তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ‘স্টার ট্রেক’-এর পরিচালক জে জে আব্রামস, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এর নির্মাতা জো ও অ্যান্থনি রুশো, ‘গার্ডিয়ানস’-এর পরিচালক জেমস গান এবং ‘অ্যাভাটার’-এর পরিচালক জেমস ক্যামেরনকে। সালডানা বলেন, “জেমস ক্যামেরন আমার ভেতরে এমন কিছু দেখেছেন, যা আমি নিজেও সবসময় দেখতে পাইনি। তাঁর বিশ্বাস, দিকনির্দেশনা ও দৃষ্টিভঙ্গি শুধু সিনেমাগুলোকেই নয়, একজন শিল্পী হিসেবে আমাকেও গড়ে তুলেছে।”

অ্যাভাটার’-এর নীল যোদ্ধা নেইতিরি

‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ জোয়ি আবার ফিরেছেন নাভি যোদ্ধা নেইতিরি চরিত্রে। মানব থেকে নাভি হয়ে ওঠা নেতা জেক সালির (স্যাম ওয়ারথিংটন) সঙ্গে নেইতিরির সম্পর্কই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল আবেগ। নীল রঙের, আট ফুট লম্বা এই চরিত্রে রূপ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে জেমস ক্যামেরনের উদ্ভাবিত পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তি।

জোয়ি বলেন, “এই জগৎ এত বাস্তব মনে হয়, কারণ অভিনয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্স ক্যাপচার আমাদের মনোযোগ এবং আবেগ দৃশ্যের ভেতর ঢেলে দেওয়ার সুযোগ দেয়। এটা আমার অভিনয়কে নতুন মাত্রা দিয়েছে।” ভক্তদের উদ্দেশে জোয়ি বলেন, “আপনাদের অটল সমর্থন, ভালোবাসা এবং আগ্রহই এই সাফল্যের আসল ভিত্তি। আপনাদের ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। এই অর্জন আমাদের সবার। আশা করি, পরের রেকর্ড ভাঙবেন আরেকজন নারী।”

২০২৫ সাল জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ারে ছিল বিশেষ স্মরণীয়। মার্চে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমি পুরস্কার জেতার ইতিহাস গড়েছেন। জাক অদিয়ার পরিচালিত এই সংগীতধর্মী ছবি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়। পরবর্তীতে তিনি স্যাগ অ্যাওয়ার্ড, বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব এবং ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডও জিতেছেন। পুরো পুরস্কার মৌসুমে তাঁর দাপট বিরল ছিল।

অস্কার জয়ের অনুভূতি নিয়ে জোয়ি ভ্যারাইটিকে মজার ছলে বলেন, “এখন আমাকে কোথাও দেখলেই সবাই বলে ‘অস্কারজয়ী জোয়ি সালডানা’। আমার স্বামী বলেন, ‘তুমি এখন ব্যাংক ডাকাতিও করতে পারবে না—খবরে লেখা হবে—অস্কারজয়ী অভিনেত্রী।’ আমি খুব সম্মানিত এবং খুশি, তবে কাজ চালিয়ে যেতে চাই।”

সামনে আরও রেকর্ড ভবিষ্যতে জোয়ি সালডানাকে আবার দেখা যাবে ‘অ্যাভাটার ৪’ (ডিসেম্বর ২০২৯) এবং ‘অ্যাভাটার ৫’–এ (ডিসেম্বর ২০৩১)। অর্থাৎ বক্স অফিসে তাঁর আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া তার সিনেমার চিত্রনাট্য ও চরিত্র নির্বাচন প্রমাণ করে, জোয়ি কেবল ব্যবসায়িক দিকেই নয়, শিল্পী হিসেবে গভীর প্রভাব রেখে চলেছেন।

জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ার প্রমাণ করে, প্রতিভা, পরিশ্রম এবং সুযোগের সঠিক ব্যবহার মিলেই একজন অভিনেত্রীকে বিশ্ববিখ্যাত এবং ব্যবসাসফল করে তুলতে পারে। ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ শুধু বক্স অফিস রেকর্ড নয়, এটি তাঁর শিল্পীজীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিশ্ব চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য জোয়ি সালডানার পথ চলা অনুপ্রেরণামূলক, যা ভবিষ্যতের নতুন প্রজন্মের নারীদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।জোয়ি সালডানা এখন শুধু অভিনেত্রী নন, তিনি হলেন এক আন্তর্জাতিক প্রতীক—শিল্প, সাফল্য এবং প্রেরণার এক নতুন সংমিশ্রণ।

-বিথী রানী মণ্ডল